সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: এ যেন অনেকটাই গুলতির কার্যপদ্ধতি। কথায় বলে, অনেকটা সামনে এগোতে, অনেকটা পিছনে হাঁটতে হয়। কোনও কোনও মহলে বলা হয়, অনেকটা মাথা নিচু করেই অনেকটা শিরদাঁড়া সোজা করা যায়। নীতীশ কুমারের রাজনৈতিক দর্শন যেন এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
[ সেনার জন্য ১ শতাংশ কর নিক সরকার, আরজি অক্ষয়ের ]
ইতিহাস বলছে, যতবার পদত্যাগ করেছেন নীতীশ, ততবারই শক্তিবৃদ্ধি করে ফিরে এসেছেন রাজনৈতিক মঞ্চে। সাল ১৯৯৯। গাইসাল ট্রেন দুর্ঘটনা নিয়ে গোটা দেশ উত্তাল। সে সময় রেলমন্ত্রক থেকে পদত্যাগ করেছিলেন নীতীশ কুমার। অনেকের ক্ষেত্রেই সেখানেই রাজনৈতিক জীবনের ইতি হয়ে যেত। কিন্তু দমেননি নীতীশ। ২০০০ সালে যখন ফিরলেন, তখন তিনি বিহারের মুখ্যমন্ত্রী। তবে সেবার মোটে সপ্তাহখানেকের জন্যই পদে ছিলেন নীতীশ। এরকম উচ্চ প্রশাসনিক পদের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক জটিল সমীকরণ, সংখ্যাতত্ত্বের হিসেবনিকেশ চলে অহরহ। ফলে সাবধানী থাকেন প্রায় প্রত্যেকেই। কিন্তু এখানেও একরকম বেপরোয়া নীতিশ। তেমন তোয়াক্কা করেননি কোনও কিছুরই। অথবা বলা ভাল, ওই পিছনে হেঁটেই সামনে এগোনোর শক্তি অর্জন করেছেন। ২০০৫ সালে ফের বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হন তিনি। পিছিয়ে পড়া রাজ্য থেকে বিহারকে দেশের সামনের সারিতে টেনে আনার কৃতিত্ব তাঁরই। ২০১৪তেও একবার মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন তিনি। ফের একবার ইস্তফা দিয়ে রাতারাতি বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হলেন নীতীশই।
[ ‘যা হচ্ছে তা দেশের গণতন্ত্রের জন্য শুভ সংকেত নয়’ ]
প্রতিবারই বদলে গিয়েছে রাজনৈতিক সমীকরণ। কিন্তু রাজনৈতিক কেরিয়ারে এভাবেই পিছিয়ে এসে বারবার এগিয়ে গিয়েছেন নীতীশ। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জীবনের সেরা ঝুঁকিটি নাকি এবারই নিয়েছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী। লালুপ্রসাদের সঙ্গে জোট বেঁধে ক্ষমতায় আসা। তারপর তাঁকে পিছনে ফেলে ফের বিজেপির হাত ধরে সরকার গঠন-নিঃসন্দেহে চরম ঝুঁকির কাজ। যখন বিজেপি বিরোধী তৃতীয় ফ্রন্ট ক্রমশ দানা বাঁধছে, তখন এরকম ঝুঁকি হয়তো না নিলেও পারতেন। কিন্তু বরাবরের রাজনৈতিক দর্শন থেকে এবারও সরে আসেননি নীতীশ। ঝুঁকি নিয়েছেন। লাভবান হবেন, নাকি ইতি পড়বে তাঁর রাজনৈতিক সফরে, সে তো সময়ই বলবে।
The post পদত্যাগ করে নয়া শক্তিতে ফেরাই নীতীশের রাজনৈতিক স্ট্র্যাটেজি! appeared first on Sangbad Pratidin.
