মারাঠি না জানলে আর মহারাষ্ট্রের বুকে ট্যাক্সি, অটো রিক্সা, ক্যাব বা বাইক ট্যাক্সি কোনওটাই চালানো যাবে না। সাফ জানিয়ে দিল সে রাজ্যের বিজেপি-শিব সেনা জোট সরকার। যে সমস্ত গাড়িচালকরা এখনও মারাঠি জানেন না, তাঁদের মাত্র মাসখানেক সময় দেওয়া হয়েছে অন্তত কাজ চালানোর মতো মারাঠি শিখে নেওয়ার জন্য। ওই ডেডলাইনের মধ্যে স্থানীয় ভাষা শিখতে না পারলে লাইসেন্স পুরোপুরি বাতিল করে দেওয়া হবে!
মহারাষ্ট্রের পরিবরহণ মন্ত্রী প্রতাপ সার্নিক বুধবার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যে সব ট্যাক্সি এবং অটো রিক্সার চালকরা কাজ চালানোর মতো মারাঠিও জানেন না, তাঁদের আগামী ১৬ আগস্টের মধ্যে স্থানীয় ভাষা শিখে নিতে হবে। সেজন্য মহারাষ্ট্র সরকার ৪৫০ জন শিক্ষকও নিয়োগ করেছে। যে সব ড্রাইভার মারাঠি শিখতে পারবেন না, তাঁদের লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়া হবে। সেই কাজটা করবেন আরটিও আধিকারিকরাই। তাছাড়া যারা নতুন করে মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি বা অটো রিক্সা চালাতে চান, তাঁদেরও কমবেশি মারাঠি জানতেই হবে। পরীক্ষায় পাশ করতে না পারলে নতুন করেও লাইসেন্স মিলবে না।
এখানেই শেষ নয়, মহারাষ্ট্রের ভূমিপুত্র না হলে সে রাজ্যে আর বাইক ট্যাক্সিও চালানো যাবে না। পরিবহণমন্ত্রী সার্নিক সাফ বলে দিয়েছেন, ১ আগস্ট থেকে সে রাজ্যে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট ছাড়া বাইক ট্যাক্সি চালানো যাবে না। তবে যারা ১৫ বছর ধরে মহারাষ্ট্রে বাস করছেন, তাঁরা ভিনরাজ্যের হলেও বাইক ট্যাক্সি চালানোর অনুমতি পাবেন।
আসলে বৃহন্মুম্বই পুরনিগমের নির্বাচনের আগে থেকেই নতুন করে মারাঠি অস্মিতা নিয়ে রাজনীতি শুরু হয়েছে মহারাষ্ট্রে। উদ্ধব ঠাকরে এবং রাজ ঠাকরে সম্মিলিতভাবে 'মারাঠা মানুষে'র যে মূল ভোটব্যাঙ্ক-সেটিকে একত্রিত করার চেষ্টা শুরু করেন। পালটা মারাঠিদের জন্য একের পর এক ঘোষণা করে শিব সেনা-বিজেপি জোটও। প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, বিএমসির নির্বাচনের পর মারাঠিদের কর্মসংস্থানের উদ্দেশে পদক্ষেপ করা হবে। সেই লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্তগুলি নেওয়া। যদিও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক দানা বাঁধছে। কারণ মহারাষ্ট্রের বিশেষ করে মুম্বইয়ের একটা বড় অংশের বাসিন্দারা আসলে মারাঠি নন। এই ভিনরাজ্যের বাসিন্দাদের একটা বড় অংশ ট্যাক্সি বা ক্যাব চালিয়ে সংসার চালান। তাঁদের কী হবে? প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা।
