বন্দে মাতরম বিতর্কে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে কংগ্রেস। ছ’টি স্তবকের পুরো গান নয়, বরং গানটির দু’টি স্তবকই গাওয়া হবে। বুধবার কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমারও (Karnataka CM DK Shivakumar) জানিয়ে দিলেন, রাজ্য সরকার কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলবে। পুরনো পরম্পরা মেনে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত গানের প্রথম দুটি স্তবকই গাওয়া হবে সরকারি অনুষ্ঠানে।
১৫ আগস্ট কংগ্রেসের সদর দপ্তরে বন্দে মাতরম গাওয়া নিয়ে বিতর্ক হয়। প্রথম দুই স্তবকের পর গান থামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধীর মতো শীর্ষনেতাদের বিরুদ্ধে। পরে দুই স্তবকই গাওয়া হবে বলে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয় কংগ্রেস। এই প্রসঙ্গে প্রশ্নের উত্তরে শিবকুমার বলেন, "আমার দলের আদর্শে বিশ্বাসী আমি। যা সিদ্ধান্ত হয়েছে, তার পক্ষেই অটল। আমার অজান্তে রাজভবনের ভেতরে হয়ত এমনটা (পুরো গান গাওয়া) হতে পারে। তবে ভবিষ্যতে সরকারের যেকোনও কর্মসূচিতে আগের অবস্থানেই থাকব। অর্থাৎ দুটি স্তবক গাওয়ার বিষয়েই অটল থাকব।"
গত সপ্তাহে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি ১৯৩৭ সালের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করে। যেখানে বলা হয়েছিল, জনসভা ও জাতীয় অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’-এর কেবল প্রথম দু'টি স্তবকই গাওয়া হবে। কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্তে ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে সরাসরি সংঘাত তৈরি হয়েছিল মোদি সরকারের। উল্লেখ্য, বিল পাশ করে আইন এনে জাতীয় গান 'বন্দে মাতরম'কে জাতীয় সঙ্গীত জনগণমন-এর সমান মর্যাদা দিয়েছে কেন্দ্র। এর মধ্যে রয়েছে সম্পূর্ণ গান গাওয়ার নির্দেশিকাও। প্রশ্ন উঠছে, কংগ্রেসের সিদ্ধান্তে জাতীয় গানের অমাননা হল না!
শিবকুমারের বক্তব্যে স্পষ্ট এবার কর্নাটকের কংগ্রেস সরকারও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের উলটো পথেই হাঁটবে। ভারতীয় রাজনীতিতে তোষণ-নীতি নিয়েও প্রশ্ন করা হয় কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রীকে। উত্তরে তিনি বলেন, কংগ্রেস বৈচিত্রে বিশ্বাস করে। তিনি পালটা বিজেপির বিরুদ্ধে তোষণ নীতির অভিযোগ আনেন।
