তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআইতে যোগ দেওয়া ২০ সাংসদের সদস্যপদ ঘিরে টানাপোড়েন পরিস্থিতি। পদ খারিজের প্রসঙ্গে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের নোটিসের এবার তাঁদের জবাব তলব লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার। তাঁদের পদ খারিজের পিটিশনের ভিত্তিতে জবাবদিহি করতে হবে ২০ জন সাংসদকে। সাত দিনের মধ্যে মধ্যে ২০ সাংসদের বক্তব্য জানতে চেয়েছেন স্পিকার।
ছাব্বিশের ভোটে দলের ভরাডুবির পরই সদলবলে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়েছিলেন অধিকাংশ সাংসদ। ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা এনসিপিআই-তে যোগ দিয়ে তাঁরা এনডিএ সরকারকে সমর্থনের কথা জানান। সেইমতো সংসদে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়দের আসন অদলবদলও হয়। কিন্তু এখনও এনসিপিআই সাংসদ হিসেবে তাঁরা ২০ জন স্বীকৃতি পাননি। এই অবস্থায় বাদল অধিবেশন চলাকালীন কালীঘাট তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শীর্ষ আদালতে আবেদন জানিয়েছিলেন, এনসিপিআই-তে যোগদানকারী সদস্যদের সাংসদ পদ খারিজ করে দেওয়া হোক। এনিয়ে তিনি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকেও চিঠি লিখেছিলেন। মঙ্গলবার সেই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট সবপক্ষকে নোটিস জারি করল। নোটিস দেওয়া হয় সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ ২০ জন দলবদলকারী। পরবর্তী শুনানি ২ সপ্তাহ পর।
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে অভিষেকের ওই মামলাটি শুনানির জন্য ওঠে। অভিষেকের হয়ে সওয়াল করেন কালীঘাট তৃণমূলের সাংসদ তথা বর্ষীয়ান আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আর উলটোদিকে সওয়াল করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তিনি জানান, এনসিপিআই সাংসদদের দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুযায়ী, সাংসদ পদ খারিজের জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রক্রিয়া শুরু করেছেন লোকসভার স্পিকার। অভিষেকের আবেদনের প্রেক্ষিতে সাংদদের বক্তব্য জানতে চেয়ে কুড়িজনকে স্পিকারের তরফে আলাদা নোটিশ ইস্যু করা হয়েছে। এই বিষয়ে প্রধান বিচারপতিকে জানানোর জন্য স্পিকারের অফিস থেকে সলিসিটর জেনারেলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়।
এ প্রসঙ্গে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র এক্স হ্যান্ডেলে একহাত নেন এনসিপিআই সাংসদদের। তিনি লেখেন, 'গোপন করার চেষ্টা ধরা পড়ে গেছে! আমরা গত ১৯ জুন সদস্যপদ বাতিলের জন্য ২০টি আবেদন জমা দিয়েছিলাম। লোকসভার স্পিকার আমাদের খরচে তাঁদের ভালো আসন দেওয়া ছাড়া আর কিছুই করেননি। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে জানিয়েছেন যে স্পিকার নোটিশ জারি করেছেন। অথচ সেই নোটিশের তারিখ ২৫শে আগস্ট—অর্থাৎ ঠিক শুনানির দিনেই!'
