অনশনরত সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন বিরোধী সাংসদরা। কিন্তু হাসপাতালে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি পুলিশ। গোটা বিষয়টি নিয়ে সুর চড়িয়েছেন সোনমপত্নী গীতাঞ্জলি আংমো। তাঁর কথায়, সোনমকে আটক করা হয়নি, তা সত্ত্বেও হাসপাতাল চত্বরে সবসময়ে পুলিশ মোতায়েন থাকছে। জানা গিয়েছে, সোনমকে অনশন ভাঙার আবেদন জানানোর জন্য দেখা করতে এসেছিলেন বিরোধী সাংসদরা। তাঁরা এনেছিলেন একটি চিঠি।
আপ, আরজেডি, সিপিআই, জেএমএমের সাংসদরা বুধবার দেখা করতে গিয়েছিলেন সোনমের সঙ্গে। বিশিষ্ট সমাজকর্মী তথা শিক্ষাবিদের প্রতি তাঁদের আর্জি, 'দেশের যুবসমাজের প্রতি যেভাবে অবদান রেখেছেন আপনি, সেই অবদানকে শ্রদ্ধা জানাই। আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য আপনি লড়াই করছেন। এই আদর্শের উপর ভর করেই শক্তিশালী এবং উজ্জ্বল ভারত গড়ে উঠবে। তাই এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আপনার অনির্দিষ্টকালের অনশন প্রত্যাহার করে নেওয়া উচিত। আপনার বলিদান নয়, দেশের দরকার আপনার জ্ঞান এবং পরিচালনা।'
কিন্তু এই চিঠি সোনমের হাতে তুলে দিতে পারেননি বিরোধী সাংসদরা। হাসপাতালে প্রবেশের আগেই তাঁদের আটকে দেয় পুলিশ। সেই ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দেন গীতাঞ্জলি। তাঁর সাফ কথা, "হাই কোর্টের নির্দেশে স্পষ্ট বলা ছিল, সোনমকে আটক করা হয়নি। চিকিৎসার জন্য তাঁকে অন্য হাসপাতালে আনা হচ্ছে, সেখানে পুলিশ থাকবে না। এখন সাংসদরা অনশন বন্ধ করতে সোনমকে অনুরোধ করতে আসছেন তাঁদের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। তাহলে কি সরকার চাইছে না সোনম অনশন ভাঙুক?"
২৫ দিন টানা অনশনে রয়েছেন সোনম। বর্তমানে তিনি ভর্তি গুরুগ্রামের বেসরকারি হাসপাতাল ‘মেদান্তে’। তাঁকে অনশন ভাঙতে অনুরোধও করেছেন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি অনড়। বুধবার হাসপাতাল থেকেই তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা এবং কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। জানিয়ে দিলেন, সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে যাতে প্রতিবাদী ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া হয়। তবেই তিনি অনশন ভাঙবেন। তবে কেন্দ্র এখনও এই আবেদনে সাড়া দেয়নি।
