মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সরাতে ফের প্রস্তুতি শুরু করল বিরোধীরা। সংবিধান সংশোধন বিলে কেন্দ্রকে পরাস্ত করার পর বিরোধীরা উজ্জীবিত। শনিবার তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রাহুল গান্ধীর শুক্রবার ফোনে যে কথা হয়েছিল, সেখানে জ্ঞানেশের ইমপিচমেন্টের প্রসঙ্গটি আসে।
সংসদে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ইমপিচমেন্টের জন্য ফের বিরোধী সাংসদরা দুই কক্ষে নোটিশ দেবেন। এ ব্যাপারে পাঁচটি বিরোধী দলের নেতা এক সঙ্গে খসড়া তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছেন বলে খবর। মূল উদ্যোক্তা অবশ্যই তৃণমূল কংগ্রেস। আগেরবারও তৃণমূল কংগ্রেসই জ্ঞানেশ কুমারকে সরাতে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার শুরুটা করেছিল। এমনকী বিরোধী সাংসদদের কাছে সই সংগ্রহের কাজটাও রাজ্যের শাসকদলই করেছিল।
বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জ্ঞানেশ কুমার পক্ষপাতদুষ্ট-বৈষম্যমূলক আচরণ করেছেন। সংসদে জমা দেওয়া নোটিসে তাঁর বিরুদ্ধে মোট সাতটি অভিযোগ তোলা হয়। এর মধ্যে ছিল ‘পক্ষপাতদুষ্ট ও বৈষম্যমূলক আচরণ’, ‘নির্বাচনী জালিয়াতির তদন্তে ইচ্ছাকৃত বাধা সৃষ্টি’ ও এসআইআর-এর মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক ভোটারকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ। নিয়ম অনুযায়ী, ওই প্রস্তাব সংসদের দুই কক্ষেই জমা দেয় বিরোধীরা। নোটিসে প্রয়োজনীয় সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি সাংসদের সই ছিল। কিন্তু কোনও এক অজ্ঞাত কারণে সেই নোটিস খারিজ করে দেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা।
তাতেই ক্ষুব্ধ বিরোধী শিবির পালটা ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে খবর। সেই প্রস্তাবেও আগের মতোই পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ আনা হবে। প্রস্তাব গৃহীত হলে ৩ সদস্যের কমিটি গঠিত হবে। সেই কমিটি ছাড়পত্র দিলে সেটি সংসদে পেশ করা হবে এবং তা নিয়ে আলোচনা হবে। বিতর্কের পর সেই প্রস্তাব নিয়ে ভোটাভুটি হবে।
