shono
Advertisement
Om Birla

শাসকের প্রতি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ, স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনছে বিরোধীরা!

গত বুধবার মোদির উপর শারীরিক হামলার আ্রশঙ্কায় অধিবেশন মুলতুবি করেন স্পিকার ওম বিড়লা।
Published By: Kishore GhoshPosted: 02:00 PM Feb 09, 2026Updated: 02:25 PM Feb 09, 2026

এবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে চলেছে বিরোধীরা! গত কয়েক দিনের লোকসভা অধিবেশনে শাসক-বিরোধী দ্বন্দ্ব তুঙ্গে। বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপর শারীরিক হামলার আ্রশঙ্কায় অধিবেশন মুলতুবি করেন স্পিকার ওম বিড়লা। বিষয়টিকে ভালো ভাবে নেয়নি কংগ্রেস-সহ দেশের বিরোধী দলগুলি। সূত্রের খবর, শাসকের প্রতি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে এবার ওমের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাজেট অধিবেশনেই তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার প্রস্ততি নিচ্ছে বিরোধীরা। এর জন্য ২০ দিনের নোটিস প্রয়োজন হয়। 

Advertisement

বিরোধীদের অভিযোগ, একাধিক বিষয়ে আলোচনার দাবি জানালেও ক্ষমতাসীন সরকার আলোচনার অনুমতি দিতে রাজি নয়। এমনকী বিরোধী দলের নেতাদের কথা বলতেই দেওয়া হচ্ছে না। ইচ্ছে মতো বারবার অধিবেশন মুলতুবি করে দিচ্ছেন লোকসভার অধ্যক্ষ। উল্লেখ্য, সোমবারও বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে বলতে দেওয়ার দাবি তোলে কংগ্রেস। সেই অনুমতি মেলেনি। হট্টগোলে দফায় দফায় মুলতুবি হয় সংসদের অধিবেশন।

বুধবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর ভাষণের উপরে ধন্যবাদজ্ঞাপন ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। যদিও সংসদমুখো হননি প্রধানমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার জানা যায় বিস্ফোরক তথ্য, কংগ্রেস নাকি মোদিকে শারীরিক ভাবে আক্রমণ করার পরিকল্পনা করেছিল, এমনটা আন্দাজ করেই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার পরামর্শে ধন্যবাদজ্ঞাপন ভাষণ   এড়িয়ে যান প্রধানমন্ত্রী। যদিও কংগ্রেস হামলা নিয়ে ওম বিড়ালর দাবিকে ভিত্তিহীন বলে। তাদের বক্তব্য, মহিলা সাংসদরা প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করবেন, এই ভাবনা হাস্যকর।

বাজেট অধিবেশনেই তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার প্রস্ততি নিচ্ছে বিরোধীরা।

আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে সুর চড়ানোর সময় হইহট্টগোলের জেরে গত মঙ্গলবার আট বিরোধী সাংসদকে সাসপেন্ড করা হয়। তা নিয়ে বুধবার সকাল থেকেই উত্তাল ছিল সংসদ। এর মধ্যেই রাহুল দাবি জানিয়েছিলেন, বুধবার প্রধানমন্ত্রী সংসদে এলে নিজে গিয়ে তাঁকে প্রাক্তন সেনাপ্রধান এমএম নারাভানের বিতর্কিত বই দিয়ে আসবেন। প্রসঙ্গত, এই বইয়ে লাদাখে চিনা আগ্রাসন সংক্রান্ত বিষয় যা লেখা হয়েছে, তার একটি অংশ সংসদে গত সোমবার পড়তে চেয়েছিলেন রাহুল। কিন্তু শাসকশিবিরের বিরোধিতা এবং স্পিকার বাধা দেওয়ায় কংগ্রেস নেতা তা পড়তে পারেননি। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর সংসদে আসার ‘ধক’ নেই বলে বুধবার রাহুল মন্তব্য করেছিলেন। বাস্তবেই সংসদে আসেননি মোদি। যদিও বিস্ফোরক কারণ জানানো হল সরকারের তরফে।

গত বুধবার বিকেল পাঁচটা নাগাদ মোদির জন্য অপেক্ষা করছিলেন সাংসদরা। সেই সময়ে প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারের কাছে জড়ো হন আট থেকে নয় জন বিরোধী মহিলা সাংসদ। তাঁদের হাতে ছিল ‘সঠিক কাজ করুন’ প্ল্যাকার্ড। এক সময় অন্য মন্ত্রীদের অনুরোধে বিরোধী মহিলা সাংসদরা বিক্ষোভ দেখানো বন্ধ করেন। এর পর অধিবেশন এবং প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ দুই মুলতুবি হয়।

এর জন্য ২০ দিনের নোটিস প্রয়োজন হয়। 

সরকারি সূত্রের বক্তব্য, রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর প্রধানমন্ত্রীর ধন্যবাদজ্ঞাপন ভাষণ না দেওয়া নজিরবিহীন ঘটনা। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। খবর ছিল, সংসদের ভিতরে প্রধানমন্ত্রীকে শারীরিক আক্রমণের ছক কষেছে কংগ্রেস। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসাবে মহিলা সাংসদরা প্রধানমন্ত্রীর আসনের সামেন জড়ো হয়েছিলেন। গোলমাল বাঁধলে মোদির নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে ভেবেই অধিবেশন মুলতুবি করেন লোকসভার স্পিকার। যদিও কংগ্রেসের কটাক্ষ, বিরোধীদের মুখোমুখি হতে হবে, এই ভয়েই সংসদে আসেননি প্রধানমন্ত্রী।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement