লোকসভায় কংগ্রেসের সহকারী দলনেতা গৌরব গগৈয়ের স্ত্রী এলিজাবেথ কলবোর্ন পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের এজেন্ট বলে আগেই দাবি করেছিলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা হিমন্ত বিশ্বশর্মা। সেই সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্তে নেমে অসম পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল সম্প্রতি একটি রিপোর্ট মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তের হাতে তুলে দিয়েছে। সেই রিপোর্টেই দাবি, পাকিস্তানে গোপন তথ্য পাচার করেছেন কংগ্রেস সাংসদ গগৈয়ের স্ত্রী! বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত, তাই এই অভিযোগের তদন্তের জন্য অমিত শাহের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দ্বারস্থ হয়েছেন হিমন্ত। প্রসঙ্গত, জাতীয় রাজনীতিতে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহের
'ঘনিষ্ঠবৃত্তের লোক' বলে পরিচিতি জাতীয় রাজনীতিতে।
পাকিস্তানের পরিকল্পনা কমিশনের প্রাক্তন উপদেষ্টা তৌকির শেখের হয়ে গগৈয়ের স্ত্রী কাজ করতেন বলে আগেই অভিযোগ উঠেছিল। তার তদন্তেই অসমে সিট গঠন করে হিমন্তের সরকার। তারাই ৪৪ পাতার রিপোর্ট জমা দিয়েছে। সাংবাদিক বৈঠকে হিমন্ত জানান, তদন্তে দেখা গিয়েছে, গৌরব এবং তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে পাকিস্তানের গভীর যোগসূত্র রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, নজর এড়িয়ে আটারি সীমান্ত দিয়ে পাকিস্তানে যেতেন গগৈয়ের স্ত্রী। বিয়ের পর থেকে তিনি মোট ন'বার ইসলামাবাদে গিয়েছিলেন। ২০১৩ সালে সস্ত্রীক পাকিস্তানে গিয়েছিলেন গগৈও। সেই সময়ে শুধু লাহোর যাওয়ার অনুমতি মিললেও, পরে তাঁরা ইসলামাবাদ এবং করাচিতেও যান বলে অভিযোগ।
এই অভিযোগের পালটা জবাব দিয়েছেন গগৈও। হিমন্তর সাংবাদিক সম্মেলনকে ‘সুপার ফ্লপ’ বলে কটাক্ষ করেছেন তিনি। সমাজমাধ্যমে লেখেন, "সি গ্রেড সিনেমার চেয়েও খারাপ। সাংবাদিকদের জন্য করুণা হচ্ছে। তাঁদের সুপার ফ্লপ সাংবাদিক সম্মেলন সহ্য করতে হল।" একই সঙ্গে হিমন্ত এবং তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে ১২ হাজার বিঘা জমি দখল করে রাখার অভিযোগও তুলেছেন গগৈ।
