মহিলা সংরক্ষণ আইন কার্যকর করা নিয়ে কেন্দ্র ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘাত ক্রমশ তীব্র আকার নিচ্ছে। ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ বাস্তবায়নের পথে ২০১১ সালের জনগণনাকে ভিত্তি করার প্রস্তাব ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। সংসদের আসন্ন অধিবেশনেই এই ইস্যুতে বড়সড় মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধী শিবির। মঙ্গলবার সরকারের পক্ষ থেকে তিনটি বিলের কপি সাংসদদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
ডিলিমিটেশন বিল অনুযায়ী, ভবিষ্যতে লোকসভার আসন সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। প্রস্তাব করা হয়েছে, রাজ্যগুলি থেকে সর্বোচ্চ ৮১৫ জন এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি থেকে সর্বোচ্চ ৩৫ জন সদস্য নিয়ে গঠিত হতে পারে লোকসভা। ফলে দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর দিকেই এগোচ্ছে কেন্দ্র। কেন্দ্রের বক্তব্য, আইন কার্যকর করতে গেলে আসন পুনর্বিন্যাস, ডিলিমিটেশন অপরিহার্য। সেই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে পুরনো হলেও ২০১১ সালের জনগণনার তথ্যকেই ভিত্তি হিসাবে ব্যবহার করার ভাবনা চলছে। সরকারের লক্ষ্য ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করা।
তবে এই অবস্থানের কড়া বিরোধিতা করছে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস-সহ ইন্ডিয়া জোটের একাধিক বিরোধী দল। তাদের দাবি, ২০১১ সালের তথ্য এখন সম্পূর্ণ অচল। নতুন জনগণনা না হওয়া পর্যন্ত আসন পুনর্বিন্যাস করা হলে দেশের রাজনৈতিক ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বুধবার কংগ্রেস সভাপতি মাল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনে বৈঠকে বসতে চলেছেন বিরোধী শিবিরের নেতারা। সেখানেই বিলটির বিরোধিতা করায় বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিরোধীদের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় বিরোধীদের সমর্থন আদায় করা কেন্দ্রের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে। বিরোধীদের মতে, “মহিলা সংরক্ষণ আইনকে সামনে রেখে আসলে ডিলিমিটেশন-এর মতো স্পর্শকাতর ইস্যুতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে কেন্দ্র।” ফলে বিষয়টি শুধুমাত্র নারী ক্ষমতায়নের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই, বরং দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক মানচিত্রের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
