সংসদে বাদল অধিবেশনের সূচনালগ্নেই তাল কাটল। রবিবার সর্বদল বৈঠকে নতুন এনসিপিআই সাংসদদের স্বাগত জানাতেই খেপে উঠলেন বিরোধীরা। বৈঠক শুরু হতেই ওয়াকআউট করে বেরিয়ে গেলেন তৃণমূল-সহ ইন্ডিয়া জোটের একটা বড় অংশের সাংসদরা। তৃণমূলের মহুয়া মৈত্র, সৌগত রায়দের সঙ্গে বেরিয়ে গেলেন কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, সিপিআই, ডিএমকে, শিবসেনা (উদ্ধব শিবির)-সহ বিভিন্ন দলের সাংসদরা।
সংসদের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মহুয়া মৈত্র বলেন, ‘‘২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের এনসিপিআই দলে মিশে যাওয়ায় এখনও চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি স্পিকার। তাদের আলাদা আসন দেওয়া হলেও পৃথক ঘর বরাদ্দ করা হয়নি। তাহলে কীসের ভিত্তিতে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী তাঁদের সর্বদল বৈঠকে আমন্ত্রণ জানালেন? আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ করে ওয়াকআউট করলাম। বিরোধীরা যাঁরা আমাদের সঙ্গে সহমত হয়ে প্রতিবাদ জানালেন, আমাদের পাশে থাকলেন, তাঁদের অনেক ধন্যবাদ।''
মহুয়াদের প্রশ্ন, এনসিপিআই আলাদা দল হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার সিদ্ধান্ত এখনও বাকি, স্পিকার চূড়ান্ত করে কিছু জানাননি। এই অবস্থায় তাঁদের সর্বদল বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হল কেন? এনিয়ে সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ জয়রাম রমেশ, তা শেয়ার করে ডেরেক ও ব্রায়েন বিরোধী ঐক্যের কথা তুলে ধরেছেন।
সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ তৃণমূলত্যাগী ২০ জন সাংসদ মাস খানেক আগে যোগ দিয়েছেন এনসিপিআই বা ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়ায়। তাঁরা এনডিএ-কে সমর্থন করে দলবদল করেছেন বলে স্পিকার ওম বিড়লাকে জানিয়েছেন এবং আলাদা দলের স্বীকৃতির আবেদন করেছেন। বাদল অধিবেশনেই যাতে সেই স্বীকৃতি মেলে, তার জন্য কম দৌড়ঝাঁপ করেননি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়রা। শনিবার এনসিপিআই-কে চিঠি পাঠিয়ে সর্বদল বৈঠকে যোগদানের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু। কিন্তু স্পিকার এখনও আলাদা দলের স্বীকৃতি নিয়ে সরাসরি কোনও সিদ্ধান্ত জানাননি। শনিবার রাতে সংসদের তরফে সচিব অধিবেশনে যোগদানকারী বিভিন্ন দলের তালিকায় সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের ২৮ জন সাংসদের কথা উল্লেখ করলেও আলাদাভাবে ২০ জন সাংসদ আলাদা আসনে বসবেন, তা লিখিতভাবে জানিয়ে দেন।
রবিবার সকাল ১১টা থেকে সংসদের অ্যানেক্স ভবনে সর্বদল বৈঠকে সুদীপ, কাকলিরা হাজির হতেই তাঁদের স্বাগত জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু ও অর্জুন রাম মেঘাওয়াল। এরপর বৈঠক শুরু হতেই হইহট্টগোল। তৃণমূল-সহ বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের শরিকরা প্রশ্ন তোলেন, কেন স্বীকৃতির আগেই এনসিপিআই-কে ডাকা হল সর্বদল বৈঠকে? এর প্রতিবাদে ওয়াকআউট করে বেরিয়ে যান তাঁদের একাংশ। সংসদের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মহুয়া মৈত্র বলেন, ‘‘২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের এনসিপিআই দলে মিশে যাওয়ায় এখনও চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি স্পিকার। তাদের আলাদা আসন দেওয়া হলেও পৃথক ঘর বরাদ্দ করা হয়নি। তাহলে কীসের ভিত্তিতে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী তাঁদের সর্বদল বৈঠকে আমন্ত্রণ জানালেন? আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ করে ওয়াকআউট করলাম। বিরোধীরা যাঁরা আমাদের সঙ্গে সহমত হয়ে প্রতিবাদ জানালেন, আমাদের পাশে থাকলেন, তাঁদের অনেক ধন্যবাদ।'' সর্বদল বৈঠক ঘিরে এই ছবিতে খানিকটা স্পষ্ট হয়েই গেল, বাদল অধিবেশন শরিকদল হিসেবে এনসিপিআই 'কাঁটা'য় বিদ্ধ হতে হবে শাসক এনডিএ-কে।
