সংসদে বাদল অধিবেশনের দিন ঘোষণা করল নরেন্দ্র মোদি সরকার। সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু জানিয়েছেন, ২০ জুলাই থেকে বাদল অধিবেশন শুরু হবে। চলবে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সংসদে বাদল অধিবেশন ডাকার অনুমতি দিয়েছেন। মন্ত্রীর আশা, অধিবেশনে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে মোট ১৯টি অধিবেশন বসবে সংসদের দুই কক্ষেই। কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার এই অধিবেশনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল আনতে চলেছে। যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্ভবত দুটি সংবিধান সংশোধনী বিল। এক, প্রধানমন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রীদের গদি কাড়ার বিল। দুই, মহিলা সংরক্ষণ আইন এবং আসন পুনর্বিন্যাস বিল। আগের মতোই এই দু'টি বিলকে যৌথভাবে সংসদে পেশ করতে পারে মোদি সরকার।
গত বছর অগস্টে সংসদের বাদল অধিবেশনের শেষদিন লোকসভায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল প্রশাসন (সংশোধনী) বিল ২০২৫, সংবিধান (১৩০ তম সংশোধনী) বিল ২০২৫ এবং জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্বিন্যাস (সংশোধনী) বিল ২০২৫। ওই বিলগুলি মূলত সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে আনা। গুরুতর অপরাধের সঙ্গে জড়িত কোনও মন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রী নিজের পদের জন্য সাংবিধানিক রক্ষাকবচ না পান, সেটাই নিশ্চিত করতে ওই বিলগুলি আনা হয়। প্রস্তাবিত ওই বিলে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বা কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং মন্ত্রীপদে আসীন অবস্থায় কেউ যদি গুরুতর অপরাধে ৩০ দিনের বেশি জেলে থাকেন তাহলে তাঁকে পদ থেকে অপসারণ করা হবে। তবে বিলটিকে পাশ না করিয়ে পাঠানো হত যৌথ সংসদীয় কমিটিতে। এবার সম্ভবত ওই সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়ে ভোটাভুটি করাতে চায় মোদি সরকার। সূত্রের খবর, ১৭ জুলাই যৌথ সংসদীয় কমিটি ওই বিল নিয়ে রিপোর্ট পেশ করবে।
দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিলটি হল নারী শক্তি বন্ধন অধিনিয়ম এবং আসন পুনর্বিন্যাস। বাংলা-সহ পাঁচ রাজ্যের ভোটের আগে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকে ওই বিলদু'টি পাশ করানোর চেষ্টা করে সরকার। কিন্তু সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করানোর মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা মোদি সরকারের হাতে নেই। এবার ওই বিলটিও ফের পেশ করা হতে পারে। কেন্দ্রের বিশ্বাস গত ৩ মাসে যেভাবে জাতীয় রাজনীতিতে বদল এসেছে তাতে দুটি সংবিধান সংশোধনী বিলই পাশ হয়ে যেতে পারে। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আরেক স্বপ্নের বিল এক দেশ-এক ভোট সম্ভবত এই অধিবেশনে আসছে না।
