কথায় আছে 'দুর্জনের ছলের অভাব হয় না।' বর্তমানে দেশের বিরোধী শিবির 'দুর্জন' নাকি 'সুজন', সেটা বিতর্কের বিষয়। কিন্তু সংসদ অচল করে রাখতে তাঁদের যে ছলের অভাব হচ্ছে না সেটা প্রশ্নাতীতভাবে প্রমাণিত। রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিরোধী শিবির সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রায় গোটাটাই পণ্ড করার চেষ্টা করে গেলেন। নিত্যদিন সকালে সংসদে আসা, বিভিন্ন ইস্যু তুলে হট্টগোল করা এবং অধিবেশন মূলতুবি করতে বাধ্য করা। এই হচ্ছে বিরোধীদের রুটিন। যার জেরে গোটা বাদল অধিবেশনে সেভাবে কোনও বিল নিয়ে আলোচনাই হল না। তবে আলোচনা না হলেও বিল পাশে পিছিয়ে নেই কেন্দ্র। যে সামান্যতম সুযোগ সরকার পেয়েছে, তাতেই একের পর এক বিল পাশ করিয়ে নিয়েছে মোদি সরকার।
বাদল অধিবেশন যখন শুরু হল তখন কংগ্রেস-সহ বিরোধীদের দাবি ছিল রাম মন্দিরের অনুদান চুরি নিয়ে আলোচনা করতে হবে। এর পর এল পড়ুয়াদের ইস্যু। রাহুলরা এবার সরব হলেন ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা ইস্যুতে। কিছুদিন বাদে প্রধান ইস্তফা দিলেন। এবার রাহুলদের নতুন দাবি, দিল্লিতে পড়ুয়াদের উপর নৃশংসতা করা হল কেন, অমিত শাহকে সংসদে এসে জবাব দিতে হবে। এখন অমিত শাহও সংসদে বিবৃতি দিতে রাজি। বস্তুত বিরোধীদের সব দাবিই মানছে সরকার। অথচ আবার নয়া ইস্যু তুলে অচলাবস্থা জারি রেখেছে বিরোধী শিবির। এবার দাবি শুধু পড়ুয়াদের ইস্যু নয়, শাহকে বিবৃতি দিতে হবে রাম মন্দিরে অনুদান চুরি নিয়েও। মোট কথা, যেভাবেই হোক বিরোধী শিবির গোটা বাদল অধিবেশন অচল করে দেওয়ার ছক কষেছে।
সব মিলিয়ে বাদল অধিবেশনে বুধবারের আগে পর্যন্ত কাজ হয়েছে মাত্র ১৫ ঘণ্টা ৩৬ মিনিট। রাজ্যসভায় অবশ্য তুলনায় বেশি, ২৪ ঘণ্টা ২১ মিনিট কাজ হয়েছে। অথচ দুই কক্ষেই অন্তত ৯০ ঘণ্টা করে কাজ হওয়ার কথা ছিল। অর্থাৎ ৮০ শতাংশের বেশি কাজের সময় অধিবেশন মূলতুবিই থেকে গিয়েছে। কিন্তু তাতে তো আর প্রয়োজনীয় বিলগুলিকে আটকে রাখা যায় না। তাই সরকার যখন যেটুকু সময় পেয়েছে তাতেই একের পর এক বিল পাশ করিয়ে নিয়েছে। সরকার সব মিলিয়ে ১৯টি বিল পাশ করিয়ে নিয়েছে অতি সামান্য সময়েই। পর্যালোচনা করে দেখা যাবে এর মধ্যে অন্তত ১০টি বিলে গড় সময় দেওয়া হয়েছে চার মিনিটেরও কম। অর্থাৎ ৪০ মিনিটেরও কম সময়ে পাশ হয়েছে ১০ বিল।
সরকারের এই অতিরিক্ত গতিতে বিল পাশ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে বিরোধী শিবির। কালীঘাট তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও ব্রায়েন বলছেন, "আইন পাশ হচ্ছে যেন ম্যাগি নুডল তৈরির গতিতে। গত ১৭ দিনে অন্তত ১০টি বিল গড়ে ৪ মিনিটেরও কম সময়ে পাশ করিয়ে নেওয়া হয়েছে। সংসদকে যেন ওরা অন্ধ কুঠুরিতে পরিণত করছে।"
