স্বাধীনতার পর প্রথমবার। বদলে গেল প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ঠিকানা। সাউথ ব্লকের ঐতিহাসিক ভবন ছেড়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) পা রাখলেন নতুন দপ্তরে। সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পে তৈরি নতুন প্রশাসনিক ভবনের এগজিকিউটিভ এনক্লেভ-১-এর সেবা তীর্থ-১-এ প্রধানমন্ত্রীর ওই নতুন দপ্তর তৈরি হয়েছে। শুক্রবার সরকারিভাবে ওই ভবনের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী।
সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পের অধীনে এই মোদি সরকারই প্রধানমন্ত্রীর এই নতুন দপ্তর তৈরি করেছে। সেবা তীর্থ-১-এ (Seva Teerth) প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর স্থানান্তরিত হয়েছে। তার পাশে, সেবা তীর্থ-২ তে মন্ত্রিসভার সচিবালয়, সেবা তীর্থ-৩-এ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের দপ্তর তৈরি হয়েছে। স্বাধীনতার পর এই প্রথম বদলাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঠিকানা। সেন্ট্রাল ভিস্তা এলাকায় কর্তব্য পথ বরাবর বিস্তৃত এই ভবনগুলিতে আরও আধুনিক, আরও সংযুক্ত এবং আরও পরিবেশবান্ধব হবে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর। বর্তমানে যে সাউথ ব্লক ও নর্থ ব্লকে গুরুত্বপূর্ণ সব মন্ত্রক রয়েছে, সেই সুসজ্জিত ভবনগুলি সংরক্ষিত হবে। আগামী দিনে এগুলিকে যুগ–যুগিন ভারত সংগ্রহালয় হিসাবে গড়ে তোলা হবে। যেখানে ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসের বিভিন্ন নিদর্শন সংরক্ষিত হবে।
শুক্রবার নতুন দপ্তরের উদ্বোধনের পরই রীতিমতো চমক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন চারটি বিরাট সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন তিনি।
১। পিএম রাহত যোজনা প্রকল্পে দুর্ঘটনাগ্রস্তদের দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশকেস চিকিৎসা সহযোগিতার ঘোষণা করেছেন মোদি।
২। লাখপতি দিদি তৈরির লক্ষ্য এতদিন ছিল ৩ কোটি। এবার সেই সংখ্যাটা বাড়িয়ে ৬ কোটি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
৩। কৃষিক্ষেত্রে পরিকাঠামো খাতে বরাদ্দ ১ লক্ষ কোটি থেকে দ্বিগুণ করে ২ লক্ষ কোটি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
৪। স্টার্ট আপ ইন্ডিয়ায় প্রযুক্তিখাতে আরও ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ ঘোষণা মোদির।
কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে, তাঁদের লক্ষ্য ঔপনিবেশিক মানসিকতা থেকে এবার বেরিয়ে আসা। ব্রিটিশ আমলে তৈরি নানা জিনিসের খোলনলচে পালটে ফেলার সময় এসেছে। এই প্রকল্পের মূল পরিকল্পনা ও মাস্টারপ্ল্যান তৈরি হয়েছিল ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে। সেন্ট্রাল ভিস্তার অধীন তৈরি ভবনগুলিতে এবার একে একে সরানো হচ্ছে সরকারি দপ্তর।
