shono
Advertisement
PM Modi

প্রকৃতির রুদ্ররোষে নেপাল! 'পাশে আছি', বলেন্দ্র শাহকে ফোন মোদির, দিলেন সাহায্যের আশ্বাস

হিমালয়ের কোলের দেশে মেঘভাঙা বৃষ্টি তৎসহ হড়পা বানে এখনও পর্যন্ত ঘোষিত মৃত ৩১। নিখোঁজ ১০৫ ভারতীয়-সহ ৪০০ কৈলাসযাত্রী।
Published By: Kishore GhoshPosted: 05:34 PM Aug 26, 2026Updated: 06:08 PM Aug 26, 2026

প্রকৃতির রুদ্ররোষে নেপাল। হিমালয়ের কোলের দেশে মেঘভাঙা বৃষ্টি তৎসহ হড়পা বানে এখনও পর্যন্ত ঘোষিত মৃত ৩১। নিখোঁজ ১০৫ ভারতীয়-সহ ৪০০ কৈলাসযাত্রী। এই অবস্থায় ফোন করে দুর্যোগে মৃতদের প্রতি শোকপ্রকাশ করার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহকে সাহায্যের আশ্বাস দিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

Advertisement

এক্স হ্যান্ডেলের পোস্টে মোদি লিখেছেন, "প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহর সঙ্গে কথা বলেছি। নেপালে বন্যায় প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছি। এই কঠিন সময়ে ভারতের জনগণ নেপালের ভাই-বোনদের পাশে রয়েছে।" মোদি আরও লিখেছেন, "নেপালকে সম্ভাব্য সব ধরনের মানবিক সহায়তা দিতে ভারত প্রস্তুত। উদ্ধার ও ত্রাণকার্য নিয়ে আমাদের দলগুলি নিবিড়ভাবে সমন্বয় করছে প্রতিবেশী দেশের প্রশাসনের সঙ্গে।"

সূত্রের খবর, বিপর্যয়ের সূত্রপাত চিনের তিব্বতে। সেখান থেকে বন্যার জল প্রবেশ করে নেপালের রসুয়া জেলায়। কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ১২৫ কিমি দূরে অবস্থিত এই জেলার উপর দিয়ে বয়ে গিয়েছে ভোটেকোশী নদী। বুধবার সকাল থেকেই আচমকা নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে। এরপরই চিন সীমান্তবর্তী ওই জেলায় ওই হড়পা বান নামে। আকস্মিক ভয়াবহ বন্যার জেরে রীতিমতো ধ্বংসযজ্ঞ চলে রসুয়া জেলায়। ভোটেকোশী নদীর জলে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চিন সীমান্তবর্তী তিমুর ও স্যাফ্রুবেসি এলাকা। সেখানে বহু ঘরবাড়ি, যানবাহন ভেসে গিয়েছে। জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে একটি সেতুও।

মুগলিন এলাকা-সহ ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে নেপালি প্রশাসন।

চিনের সংবাদ সংস্থা ‘সিনহুয়া’র খবর অনুযায়ী, হড়পা বানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তিব্বতের গাইরং প্রদেশ-সহ বহু এলাকা। হতাহতের সংখ্যাও বহু। কিন্তু কী কারণে এই হড়পা বান, তা এখনও স্পষ্ট নয়। নেপালের বন্যা পূর্বাভাস বিভাগ জানিয়েছে যে, রসুয়ায় ভারী বৃষ্টির জেরে এই বিপর্যয় ঘটেছে, এমন সম্ভাবনা কম। ফলে তিব্বত থেকে জল নেমে আসার বিষয়টিই প্রকট। পাশাপাশি, হিমবাহের জলাধার ভেঙে হঠাৎ জল নেমে আসা বা ‘গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড’-এর সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে নেপালি সংবাদমাধ্যম ‘দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট’।

নেপাল পর্যটন বোর্ডের তথ্যানুযায়ী, বন্যাদুর্গত এলাকা থেকে অন্তত ৩৮৪ জন পর্যটক নিখোঁজ। তাঁদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালি নাগরিক। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদেশিদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। অন্যদিকে, রাসুয়া জেলায় নেপাল পুলিশের অন্তত ২৬ জন আধিকারিক এখনও নিখোঁজ। পাশাপাশি, খোঁজ মিলছে না নেপালি আধাসেনার কমপক্ষে ৭ জওয়ানেরও।

নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুগলিন এলাকা-সহ ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে নেপালি প্রশাসন। ভয়াবহ এই দুর্যোগে উদ্বিগ্ন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ। তিনি জানিয়েছেন, বিপর্যয় মোকাবিলায় নেমে পড়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসক দল, স্কাউট, রেড ক্রস। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে অতিরিক্ত অ্যাম্বুল্যান্স ও চিকিৎসাকর্মীদের পাঠানো হচ্ছে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement