গোড়া থেকেই প্রশ্ন ছিল, রামমন্দিরে অনুদান চুরির ঘটনায় কি রাঘব বোয়ালদের আড়াল করা হচ্ছে? এবার পুলিশি অভিযোগ দায়ের হল শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাইয়ের বিরুদ্ধে। বিরাট অঙ্কের আর্থিক দুর্নীতি প্রকাশ্যে আসতেই পদ ছেড়েছিলেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ঘনিষ্ঠ চম্পত। তবে এতদিন পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি। সেটাই হয়ে গেল বৃহস্পতিবার।
এদিন ফয়জাবাদ বার অ্যাসোসিয়েশনের আইনজীবীরা প্রতিবাদ মিছিল করেন। আদালত থেকে থানা পর্যন্ত মিছিল করে তাঁরা অভিযোগ দায়ের করেন চম্পতের বিরুদ্ধে। তাঁর বিরুদ্ধে যেন দ্রুত এফআইআর দায়ের করা হয়, এই মর্মে অভিযোগ জমা দেন আইনজীবীরা। ইতিমধ্যেই আইনজীবীদের অনেকেই জানিয়েছেন, রামমন্দিরে অনুদান চুরির অভিযুক্তদের হয়ে সওয়াল করবেন না তাঁরা। কোনও আইনজীবী মামলা লড়লে তাঁকে ৫ লক্ষ টাকার জরিমানাও করা হবে বলে জানিয়ে দিয়েছে বার অ্যাসোসিয়েশন।
রাম মন্দিরে চুরির ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট। রিপোর্টে উঠে এসেছে, রামমন্দিরে নগদ প্রণামী জমা পড়েছে ৩,৫০০ কোটি টাকারও বেশি, সঙ্গে অগণিত সোনা-রুপোর গয়না৷ এই ধনরাশির একটা বড় অংশের কোনও হদিশ মিলছে না৷ নগদ টাকা এবং গয়নার পাশাপাশি মন্দিরের হেফাজত থেকে গায়েব দানে পাওয়া রুপোর তৈরি ভূষূণ্ডির কাকও৷ তদন্তে উঠে এসেছে, গোটা সিস্টেমে যে অব্যবস্থার কথা বলা হচ্ছে, সেই সিস্টেমে ঢুকে রয়েছেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের লোকেরাই।
চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ট্রাস্ট ঘনিষ্ঠ ৮ জনকে। এই ঘটনা সামনে আসার পরই রাম মন্দির ট্রাস্টের প্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন চম্পত। তারপর থেকেই কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টির মতো বিরোধী দলগুলির দাবি ছিল, চুরির ঘটনায় অনেক বড় নাম জড়িয়ে রয়েছে। সেই রাঘব বোয়ালদের আটক করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। যদিও নির্দিষ্ট কারোর নাম করা হয়নি। চম্পতের সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদও। এহেন পরিস্থিতিতে কি চম্পতের বিপদ বাড়ছে? 'রাঘব বোয়াল' হিসাবে কি তাঁর দিকেই আঙুল তুলছেন রাজনীতিবিদরা?
