দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসাবে ইতিহাস গড়লেন দ্রৌপদী মুর্মু। বায়ুসেনার রাফালে যুদ্ধবিমানের পর লাইট কমব্যাট হেলিকপ্টার (এলসিএইচ) ‘প্রচণ্ড’-তে সওয়ার হলেন তিনি। শুক্রবার রাজস্থানের জয়সলমেরে ভারত-পাক সীমান্তের কাছে বায়ুসেনাঘাঁটি থেকে হেলিকপ্টারটি ওড়ে।
বৃহস্পতিবার দু’দিনের সফরে রাজস্থানে পা রেখেছেন রাষ্ট্রপতি। শুক্রবার বাযুসেনার ‘বায়ু শক্তি’ নামে একটি প্রদর্শনীতে যোগ দেওয়ার কথা তাঁর। প্রধান অতিথি হিসাবে আমন্ত্রিত তিনি। তার আগেই এদিন সকালে তিনি ‘প্রচণ্ড’তে সওয়ার হলেন। মুর্মুর পরনে ছিল বায়ুসেনার পোশাক। বায়ুসেনাঘাঁটিতে তাকে স্বাগত জানান বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এ পি সিং। হেলিকপ্টারে উঠেই সহকারী পাইলটের আসনে গিয়ে বসেন রাষ্ট্রপতি। শুধু তাই নয়, উড়ানের আগে হাতও নাড়েন রাষ্ট্রপতি।
ককপিটে বসে রাষ্ট্রপতি আত্মনির্ভরতার বার্তা দেন। তিনি বলেন, “প্রচণ্ড হেলিকপ্টার আত্মনির্ভরতার একটি শক্তিশালী প্রতীক। এই মুহূর্তে আমি জয়সলমেরের উপর দিয়ে উড়ছি। আমাদের সাহসী জওয়ানদের প্রতি আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা রইল। তাদের কৃতজ্ঞতাও জানাই। জয় হিন্দ, জয় ভারত।” উল্লেখ্য, গত বছর দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসাবে ইতিহাস গড়েছিলেন মুর্মু। সওয়ার হন রাফালে যুদ্ধবিমানে। তারও আগে ২০১৩ সালের ৮ এপ্রিল অসমের তেজপুর বায়ুসেনা ঘাঁটি থেকে যুদ্ধবিমান সুখোই-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমানে চড়েন মুর্মু।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে প্রথমবার দেশের বায়ুসেনায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল 'প্রচণ্ড' নামের এই অত্যাধুনিক হেলিকপ্টারগুলি। এটির নির্মাণকারী সংস্থা হিন্দুস্তান এরোনটিক্সে লিমিটেড (হ্যাল)। এই কপ্টার ৫হাজার মিটার অর্থাৎ ১৬ হাজার ফুট উচ্চতায় সাবলীলভাবে উড়তে সক্ষম। সিয়াচেন ও লাদাখের মতো সুউচ্চ স্থানে শত্রুর উপর নজরদারি চালাতে এই হেলিকপ্টার ব্যাপক কার্যকর হয়ে উঠবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। এছাড়াও আকাশ থেকে আকাশে এবং আকাশ থেকে মাটিতে নিখুঁত নিশানায় মিসাইল ছুড়তেও এর জুড়ি মেলা ভার। পাশাপাশি, এই কপ্টারে রয়েছে ইন্টিগ্রেটেড ডেটা চিপ। যার ফলে নেটওয়ার্ক কেন্দ্রিক কাজকর্ম করতে সক্ষম এই কপ্টার। যা কোনওরকম যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সেনাকে বাড়তি সুবিধা প্রদান করবে।
