গঙ্গা-যমুনার তীরে এবার বইবে চড়া প্রযুক্তির হাওয়া। সিঙ্গাপুর এবং জাপান— দুই দেশ চষে ফেলে কার্যত ‘লটারি’ জিতলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। বিনিয়োগের নিরিখে এই সফর নজিরবিহীন সফল। বিনিয়োগ আলোচনা থেকে উত্তরপ্রদেশ সরকার প্রায় ১.৫ লক্ষ কোটি টাকার মৌ স্বাক্ষর করেছে। পাশাপাশি, ২.৫ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব হাতে এসেছে। ২০২৯-৩০ সালের মধ্যে উত্তরপ্রদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্যে এটি এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।
টোকিও এবং ইয়ামানাশির শিল্প মহলে কার্যত দাপিয়ে বেড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী। কুবোতা কর্পোরেশন, স্পার্ক মিন্ডা, জাপান অ্যাভিয়েশন ইলেকট্রনিক্স ইন্ডাস্ট্রি এবং নাগাসে অ্যান্ড কোং-এর মতো বড় সংস্থাগুলির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে রাজ্যে প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত খুলবে। এছাড়া সুজুকি মোটর কর্পোরেশন, হোন্ডা এবং মিতসুইয়ের মতো জায়ান্টদের সঙ্গেও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বিনিয়োগের মূল ক্ষেত্র হল সেমিকন্ডাক্টর, গ্রিন হাইড্রোজেন, অটোমোবাইল, এবং ডেটা সেন্টার।
চুক্তি অনুযায়ী, যমুনা এক্সপ্রেসওয়ে শিল্প উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এলাকায় ৫০০ একর জমিতে গড়ে উঠবে ‘জাপান সিটি’। এটি জাপানি সংস্থাগুলির জন্য একটি ডেডিকেটেড শিল্প হাব হবে। এছাড়াও, প্রযুক্তির আদান-প্রদান এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির জন্য ইয়ামানাশি বিশ্ববিদ্যালয় এবং আইআইটি কানপুরের যৌথ উদ্যোগে রাজ্যে ‘গ্রিন হাইড্রোজেন সেন্টার অফ এক্সিলেন্স’ স্থাপন করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী নিজে জাপানের অত্যাধুনিক ম্যাগলেভ ট্রেনের সফর এবং ফানুক কর্পোরেশনের রোবোটিক্স কারখানা পরিদর্শন করেন। এদিকে, সিঙ্গাপুরের সফরেও বাজিমাত করেছে যোগীর ‘টিম ইউপি’। সেখানে মেইনটেন্যান্স, রিপেয়ার অ্যান্ড ওভারহল, কার্গো হাব, এবং ফিনটেক নিয়ে বড়সড় চুক্তি হয়েছে। গ্রেটার নয়ডার জেওয়ার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানের এমআরও এবং কার্গো হাব হিসেবে গড়ে তুলতে সিঙ্গাপুরের সহযোগিতা মিলবে।
স্বচ্ছ নীতি এবং উন্নত আইন-শৃঙ্খলার কারণে বৈশ্বিক লগ্নিকারীদের ভরসা এখন উত্তরপ্রদেশ। এই সফর প্রমাণ করল যে, বিশ্বের লগ্নির মানচিত্রে উত্তরপ্রদেশ এখন অন্যতম প্রধান নাম।
