অমৃতসর, জলন্ধরে বিএসএফ-এর দপ্তর ও ক্যাম্পে পরপর বিস্ফোরণে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় হতাহতের খবর না পাওয়া গেলেও নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সংস্থা। প্রশ্ন উঠেছে ওই হামলা কি জঙ্গি হামলা? এই পরিস্থিতিতে বিস্ফোরক দাবি করলেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবত মান। তাঁর দাবি, এই বিস্ফোরণের নেপথ্যে হাত রয়েছে বিজেপির। যদিও সেরাজ্যের শীর্ষ পুলিশ কর্তার আঙুল পাকিস্তানের দিকে।
ভগবত মানের দাবি, “বিজেপি যেখানেই নির্বাচনে লড়তে চায়, সেখানেই এ ধরনের ঘটনা ঘটে।” তিনি গেরুয়া শিবিরকে এই ধরনের কার্যকলাপ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। স্বাভাবিক ভাবেই এমন দাবি ভালোভাবে নিচ্ছে না বিজেপি। এক্স হ্যান্ডলে অশ্বিনী শর্মা লিখেছেন, 'মনে হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীর মানসিক অবস্থা স্থিতিশীল নয়। তাঁর পদত্যাগ করা উচিত এবং যথাযথ চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। পাঞ্জাব একটি সীমান্ত রাজ্য, যা পরিচালনা করতে আপনি সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। বিজেপির ওপর কাদা ছুড়ে আপনি নোংরা রাজনীতিতে লিপ্ত হচ্ছেন, যা আপনার হীন মানসিকতারই প্রতিফলন।'
বিস্ফোরক দাবি করলেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবত মান। তাঁর দাবি, এই বিস্ফোরণের নেপথ্যে হাত রয়েছে বিজেপির। যদিও সেরাজ্যের শীর্ষ পুলিশ কর্তার আঙুল পাকিস্তানের দিকে।
এদিকে ডিজিপি গৌরব যাদবের সন্দেহ, এর নেপথ্যে আইএসআইয়ের হাত থাকতে পারে। তাঁর মতে, দুই ক্ষেত্রেই বিস্ফোরণ আইইডির মাধ্যমে ঘটানো হয়েছে। যদিও মিথ্যা বয়ান বা আখ্যান তৈরির চেষ্টা করছে আইএসআই। চেষ্টা করা হচ্ছে, পাঞ্জাবের পরিস্থিতি যে অস্থিতিশীল, তা প্রমাণ করার। এবং মুষ্টিমেয় ব্যক্তি পাঞ্জাবে বসে পাকিস্তানের ইশারায় এমনটা করছে বলে তাঁর দাবি।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যাচ্ছে, রাতে মোটরসাইকেলে চেপে আসা এক সন্দেহভাজন গ্রেনেড ছোড়ে সেনা ক্যাম্প লক্ষ করে। অমৃতসর গ্রামীণ পুলিশের এসপি আদিত্য ওয়ারিয়ার জানান, রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১১টা নাগাদ সেনা ক্যাম্পের বাইরে বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনার পরপর পুলিশ ও সেনাবাহিনী গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে। পুলিশ জানিয়েছে, ‘আমরা গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। ফরেনসিক দলও ঘটনাস্থলে রয়েছে। কে বা কারা এই হামলার নেপথ্যে তার তদন্ত শুরু হয়েছে।
ঘটনার মুহূর্তের একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামনে এসেছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, ব্যস্ত রাস্তায় হঠাৎ বিরাট বিস্ফোরণ ঘটে স্কুটারে। ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ে রাস্তা জুড়ে। এক ব্যক্তিকে ছুটে পালাতে দেখা যায়। যেহেতু এটি সীমান্তবর্তী এলাকা তাই এর সঙ্গে কোনও জঙ্গিযোগ রয়েছে কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
