shono
Advertisement
Karnataka CM

শিবকুমারকে মুখ্যমন্ত্রী চান প্রিয়াঙ্কা, ইস্তফা দেবেন সিদ্দা? কর্নাটক নিয়ে জোর নাটক কংগ্রেসে

কেরলে দল সদ্য ক্ষমতায় ফিরেছে। কিন্তু পাশের রাজ্য কর্নাটকে অস্বস্তি কাটছেই না কংগ্রেসের। রাজ্যে দল সরকার চালাচ্ছে, কিন্তু সিদ্দারামাইয়া-শিবকুমার শিবিরের সংঘাত কিছুতেই মিটছে না।
Published By: Subhajit MandalPosted: 07:33 PM May 26, 2026Updated: 07:33 PM May 26, 2026

কেরলে দল সদ্য ক্ষমতায় ফিরেছে। কিন্তু পাশের রাজ্য কর্নাটকে অস্বস্তি কাটছেই না কংগ্রেসের। রাজ্যে দল সরকার চালাচ্ছে, কিন্তু সিদ্দারামাইয়া-শিবকুমার শিবিরের সংঘাত কিছুতেই মিটছে না। রাজ্যে নেতৃত্ব বদল ও মন্ত্রিসভায় রদবদলের জল্পনা তীব্র হচ্ছে ক্রমশ। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার বিবাদমান দুই গোষ্ঠীর নেতাকে দিল্লিতে ডেকে তাঁদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করল কংগ্রেস। সূত্রের দাবি, কর্নাটকে অবিলম্বে নেতা বদলে শিবকুমারকে মুখ্যমন্ত্রী করতে চাইছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। কিন্তু তাঁর সেই দাবি মানা হচ্ছে কিনা স্পষ্ট নয়। কংগ্রেসের একটি সূত্র দাবি করছে সিদ্দারামাইয়াকে ইস্তফা দিতে বলা হয়েছে। আর একটা সূত্রের দাবি, আপাতত নেতৃত্বে বদল আসছে না। 

Advertisement

সূত্রের খবর, দিল্লিতে আজ কর্নাটকের বিবাদমান দুই গোষ্ঠীর সঙ্গে প্রায় ঘণ্টা দেড়েক বৈঠক হয়েছে। ৩ দফায় আলাদা আলাদা করে তাঁদের বক্তব্য শোনেন রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং কে সি বেণুগোপালরা। আলাদা করে দুই নেতার বক্তব্য শোনেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও। পরে প্রিয়াঙ্কা দুই নেতার বক্তব্য নিজের মা তথা কংগ্রেসের সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধীও জানান। কংগ্রেসের অন্দরে খবর, প্রিয়াঙ্কা চাইছেন অবিলম্বে কর্নাটকে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শিবকুমারকে উন্নীত করা হোক। যাতে ২০২৮ নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে দলে বা জনমানসে কোনও সংশয় না থাকে। সদ্যই কেরলের মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনে প্রিয়াঙ্কার মত গুরুত্ব পেয়েছিল। কিন্তু এবার কি তেমনটা হবে? কংগ্রেসের একটি সূত্র বলছে, হাইকম্যান্ড বুঝিয়েশুনিয়ে সিদ্দারামাইয়াকে ইস্তফা দিতে রাজি করিয়েছেন।  

যদিও প্রকাশ্যে কংগ্রেস হাইকম্যান্ড বলছে, সিদ্দারামাইয়া ও তাঁর ডেপুটি শিবকুমারের মধ্যে নেতৃত্বের লড়াইয়ের ইস্যু নিয়ে মঙ্গলবার আলোচনাই হয়নি। কর্নাটক থেকে রাজ্যসভার চারটি আসনের নির্বাচন ঘিরে মূল আলোচনা হয়েছে। আসনগুলির মধ্যে কংগ্রেসের জেতার সম্ভাবনা তিনটিতে। এছাড়া, দাক্ষিণাত্যের এই রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসাইআর) চালুর প্রসঙ্গেও কথা হয়েছে। বৈঠক শেষে দলের সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক কে সি বেনুগোপাল দাবি করেছেন, নেতৃত্ব বদল নিয়ে জল্পনার কোনও ভিত্তিই নেই।

প্রসঙ্গত, শিবকুমারের অনুগামীরা ২০২৩-এর বিধানসভা ভোটে কংগ্রেসের জয়ের পর স্থির হওয়া ক্ষমতা ভাগাভাগির সূত্র মেনে তাঁর প্রমোশন চাইছেন অনেকদিন ধরে। যদিও সিদ্দারামাইয়া বারবার জোর গলায় বলছেন, পুরো ৫ বছরের মেয়াদ তিনি পূরণ করবেন। অন্যদিকে, শিবকুমারের অবস্থান, কংগ্রেস নেতৃত্বের সিদ্ধান্তই তিনি মানবেন। যদিও দুই নেতার আকচাআকচির মধ্যে অধিকাংশ কংগ্রেস রাজ্যনেতার অভিমত, নেতৃত্বের ইস্যু প্রশাসন চালানোয় ও দলের সরকারের ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলছে। ২০২৮-এর বিধানসভা ভোটে দলের সম্ভাবনা বিচার করে ইস্যুটির মীমাংসা করা উচিত হাইকম্যান্ডের। কংগ্রেস বিধায়কদের একটা বড় অংশ মন্ত্রিত্ব প্রত্যাশী। তাঁরাও মন্ত্রিসভা রদবদলের দাবি করছেন শিকে ছেঁড়ার আশায়। এমনকী তাঁদের কেউ কেউ ইতিমধ্যে দিল্লি দৌড়েছেন হাইকম্যান্ডের কাছে দরবার করতে, বাকিরাও দিনকয়েক বাদে রাজধানী যাওয়ার প্ল্যান করছেন একই পরিকল্পনায়। কর্নাটকে মুখ্যমন্ত্রী সমেত মন্ত্রিসভায় আছেন ৩৪ মন্ত্রী। দলীয় সূত্রের খবর, সিদ্দারামাইয়া মন্ত্রিসভা রদবদল চান। কিন্তু শিবকুমারের লক্ষ্যে, আগে নেতৃত্বের প্রশ্নের নিরসন হোক। কিন্তু তাঁর অপেক্ষা সম্ভবত বাড়তে চলেছে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement