এবার বিজেপি ও কংগ্রেসকে একসারিতে বসাল সিপিএম। কেরলের সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের বাড়িতে ইডি হানার নেপথ্যে বিজেপির পাশাপাশি কংগ্রেসকেও কাঠগড়ায় তুলছেন সিপিএম নেতারা। খোদ বিজয়ন বলছেন, "আজ রাহুল গান্ধী খুবই খুশি হবেন।"
আসলে কেরলের ভোটপ্রচার চলাকালীন রাহুল গান্ধী বিজেপি-সিপিএম আঁতাঁতের অভিযোগ করেছিলেন। লোকসভার বিরোধী দলনেতা প্রশ্ন তুলেছিলেন, "এত এত দুর্নীতির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন পিনারাই বিজয়নকে ইডি-সিবিআই জিজ্ঞাসাবাদ করে না। কেন বিজয়নের বাড়িতে ইডি হানা দেয় না।" কাকতালীয়ভাবে যে দুর্নীতির মামলায় বুধবার ইডি বিজয়নের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে, সেই মামলাটি পুরনো। ভোটের আগে ওই মামলায় বিশেষ সক্রিয়তা ইডি দেখায়নি। কেরলে সিপিএম ক্ষমতাচ্যুত হতেই আচমকা কেন্দ্রীয় সরকারের ওই এজেন্সি সক্রিয় হয়ে উঠল। আর পুরো ঘটনার পিছনে বিজেপিকে যেমন দায়ী করছে বাম নেতৃত্ব, তেমনই দায়ী করা হচ্ছে কংগ্রেসকেও।
কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়নের বাড়িতে তল্লাশি ইডির।
বিজয়ন নিজে বলছেন, "কংগ্রেস বিরোধী দলগুলির বিরুদ্ধে ইডির পদক্ষেপকে সমর্থন করছে। ওরা শুধু ভাবে নিজেদের দলের বাইরে যে কোনও দলের বিরুদ্ধে ইডির অভিযান সমর্থনযোগ্য। আমি মনে করি এই তল্লাশিতে কিছু মানুষ খুশি হবে। বিশেষ করে রাহুল গান্ধী। তিনি তো প্রকাশ্যেই প্রশ্ন করেছিলেন, কেন আমাকে গ্রেপ্তার করা হল না।" একা বিজয়ন নন, কেরলের বাম সাংসদ জন ব্রিটাস বলছেন, "এটা পরিষ্কার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। শুধু বিজেপি নয়, কংগ্রেসও এর সঙ্গে যুক্ত। কারণ ভোটের আগে রাহুল গান্ধী এসে বারবার বলে গিয়েছেন বিজয়নের বিরুদ্ধে কেন তদন্ত করছে না কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি।"
যে মামলায় ইডির এই অভিযান সেটি ২০১৮-১৯ সালের। পিনারাই বিজয়নের মেয়ে টি বীণার বিরুদ্ধে বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ ছিল, কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেড (সিএমআরএল) নামে একটি বেসরকারি সংস্থা ওই বছর বিজয়ন কন্যার সংস্থা এক্সালজিক সলিউশনস-কে ১.৭২ কোটি টাকা বেআইনি ভাবে দিয়েছিল। এবং আইটি সংস্থাটি সিএমআরএল-কে কোনও পরিষেবা দেয়নি। ইডি এই মামলার তদন্তে নামলে, পালটা সিএমআরএল নামক সংস্থা আদালতের দ্বারস্থ হয়। এবং ইডির দায়ের করা অভিযোগ বাতিলের আবেদন জানানো হয়। মঙ্গলবার সংস্থার সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে কেরালা হাই কোর্ট। এরপরই কেরলের অন্তত ১২টি জায়গায় তল্লাশি অভিযানে নামে ইডি।
