shono
Advertisement

Breaking News

Ralph Lauren

ফের ভারতীয় নকশা চুরি! প্রাদার পর এবার অভিযুক্ত 'রালফ লরেন' ফ্যাশন ব্র্যান্ড

গত বছর মিলানে ভারতের ঐতিহ্যশালী কোলাপুরি চটির নকশা তুলে ধরে সেটিকে স্রেফ 'লেদার স্যান্ডেল' বলে চালিয়েছিল প্রাদা।
Published By: Amit Kumar DasPosted: 12:40 PM Sep 15, 2026Updated: 01:28 PM Sep 15, 2026

কিছুদিন আগেই এই অভিযোগ উঠেছিল প্রাদার বিরুদ্ধে। এবার নিশানায় রালফ লরেন (Ralph Lauren)। অভিযোগ নকশা চুরির। কখনও বলা হয় অনুপ্রাণিত, কখনও আবার সরাসরি নকল। আদল বিষয়টি হল 'চুরি'-ই। অতীতেও পৃথিবীবিখ্যাত ফ্যাশন হাউসগুলি অন্য দেশের ঐতিহ্যবাহী শিল্প কিংবা পুরনো নকশা ব্যবহার করছে। ফ্যাশন জগতে আগেও এই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। এবার বিতর্কে আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ব্র্যান্ড রালফ লরেন-এর নতুন পোশাক।

Advertisement

লরেনের সাম্প্রতিক প্রদর্শিত হওয়া গোলাপি পোশাকটিতে ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের ছোঁয়া স্পষ্ট হলেও, কোথাও জায়গা পেল না 'ভারত' কিংবা কারিগরদের নাম। শুধুমাত্র 'হাতে করা সজ্জা' হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে এই পোশাকের। আর তাতেই সোচ্চার হয়েছেন সোশাল মিডিয়া থেকে শুরু করে নানা মহলের ফ্যাশন ডিজাইনাররা। ১২ সেপ্টেম্বর ইনস্টাগ্রামে পোশাকটির ছবি পোস্ট করে রালফ লরেন ফ্যাশন ব্র্যান্ড। ক্যাপশনে ফ্যাব্রিক হিসাবে সুতোয় বোনা 'শিমারিং সিদ্ধ-ভিসকোসে'র কথা বিস্তারিত লেখা হলেও, পোশাকের মূল আকর্ষণ হাতের কাজটিকে স্রেফ এক শব্দে সেরে দেওয়া হয়। আর তাতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছে সোশাল মিডিয়া।

লরেনের সাম্প্রতিক প্রদর্শিত হওয়া গোলাপি পোশাকটিতে ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের ছোঁয়া স্পষ্ট হলেও, কোথাও জায়গা পেল না 'ভারত' কিংবা কারিগরদের নাম।

ফ্যাশন ডিজাইনার প্রখর রাও সিং চান্ডেল এ প্রসঙ্গে সোশাল মিডিয়া পোস্টে লিখেছেন, কাপড়ের ক্ষেত্রে দীর্ঘ বিবরণ দেওয়া হলেও কারিগরদের সুক্ষ্ম হাতের কাজকে একটি মাত্র অস্পষ্ট শব্দে সংকুচিত করা হয়েছে। রালফ লরেনের দেওয়া ক্যাপশন বলছে, 'প্রতিটি পোশাকের যেন নিজস্ব ইতিহাস ও চরিত্র থাকে'। সেই লেখা উদ্ধৃত করে প্রখর কড়া ভাষায় প্রশ্ন তোলেন, পোশাকে কার ইতিহাস আর কার চরিত্র থাকে। যে নকশাকে নিয়ে এই বিতর্ক সেটিকে ভারতের ঐতিহ্যশালী সূচিশিল্প পদ্ধতি 'জরদৌসি' বলে উল্লেখ করেন তিনি। প্রখর লিখেছেন, '২০১৩ সাল থেকেই লখনউ এবং তার চারপাশের ছয়টি জেলায় এটি জিআই স্বীকৃতি পেয়েছে। প্রায় ১ লক্ষ ৭৫ হাজার কারিগর ওই ক্ষেত্রটিতে এই কাজ করেন। এটা স্রেফ কোনও সাজানোর বস্তু নয়, এর পেছনে একটা আস্ত ভূগোল জড়িয়ে রয়েছে।' গত বছর মিলানে ভারতের ঐতিহ্যশালী কোলাপুরি চটির নকশা তুলে ধরে সেটিকে স্রেফ 'লেদার স্যান্ডেল' বলে চালিয়েছিল প্রাদা, এই অভিযোগটিও তুলে ধরেছেন প্রখর। জানান, পরে মহারাষ্ট্র চেম্বার অফ কমার্স চিঠি দেওয়ার পর বাধ্য হয়ে ভারতের নাম জুড়েছিল তারা। তাঁর টিমে জরদৌসির কাজ করা 'বাবলু ভাই' নামে এক শিল্পীর উল্লেখও করেছেন প্রখর।

আন্তর্জাতিক ফ্যাশন হাউসগুলি বারবার ভারতের কারুশিল্পকে ব্যবহার করার পরেও ভারতীয় শিল্পীদের যথাযথ স্বীকৃতি না দেওয়ার বিরুদ্ধে সরব হয়েছে সোশাল মিডিয়া। পাশাপাশি লরেনের নকশাটিতে জরদৌসি ছাড়াও আরেকটি সূচিশিল্প 'আরি' ব্যবহার করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন অনেক নেটিজেন। কোলাপুরি চটি ছাড়াও একাধিক বিদেশি ফ্যাশন ব্র্যান্ড ভারতের বাঁধনি প্রিন্ট, তামবুরা, কুমকোর মতো একাধিক ভারতীয় নকশাকে স্রেফ চুরি করে নিজেদের ডিজাইন বলে চালিয়েছে- এমন গুচ্ছ অভিযোগ তুলে ধরেছেন বহু নেটিজেন। সোশাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ভারতের বহু প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিল্পী নিজেদের রক্ত জল করে এই শিল্প বাঁচিয়ে রেখেছেন, তাঁদের প্রাপ্য সম্মান না দিলে তাঁরা অলক্ষ্যেই হারিয়ে যাবেন, এমন মন্তব্যও করেছেন অনেকেই।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement