shono
Advertisement

Breaking News

Delhi PG Collapse

একঘরে ৩ জন, ভাড়া ৩০ হাজার! দিল্লির অভিশপ্ত বাড়িকে 'টাকার খনি' বানান বায়ুসেনার প্রাক্তন সার্জেন্ট!

হরিরাম বায়ুসেনার সার্জেন্ট পদে ছিলেন। অবসরের পর নানা ব্যবসার পাশাপাশি এই ঘরভাড়ার ব্যবসা শুরু করেন তিনি। আদালতে তোলা হলে তাঁকে ১৪ দিনের জেল হেফাজত দেওয়া হয়েছে।
Published By: Amit Kumar DasPosted: 01:10 PM Sep 08, 2026Updated: 03:54 PM Sep 08, 2026

নিয়ম কানুনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দিল্লির অভিশপ্ত বাড়ি সত্য নিকেতনকে কার্যত টাকার মেশিন বানিয়েছিল অভিযুক্ত মালিক। বাড়ি ভেঙে ৭ জনের মৃত্যুর ঘটনায় গত সোমবার রাজস্থানের ভিয়াডা থেকে হরিরাম গুপ্তা নামে ওই অভিযুক্ত, তাঁর স্ত্রী, পুত্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জানা যাচ্ছে, হরিরাম বায়ুসেনার সার্জেন্ট পদে ছিলেন। অবসরের পর নানা ব্যবসার পাশাপাশি এই ঘরভাড়ার ব্যবসা শুরু করেন তিনি। আদালতে তোলা হলে তাঁকে ১৪ দিনের জেল হেফাজত দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হওয়ার কারণে ৫০ বছরের পুরনো এই বাড়িটি কিনেছিলেন হরিরাম। বাড়ি ছিল তাঁর স্ত্রী উর্মিলার নামে। পুরনো এই বাড়ি রং করে মেসবাড়ি হিসেবে ভাড়া দেওয়া হয়। ভাড়াও ছিল বেশ চড়া। বাড়ির প্রতিটি ঘরে ৩ জন করে থাকার ব্যবস্থা করা ছিল। ভাড়া বাবদ প্রত্যেকের থেকে মাসে ১০ হাজার টাকা করে নেওয়া হত। ৫ তলা বাড়িটির দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন হরিরাম ও তাঁর পুত্র মহেশ। এই বাড়ি থেকে প্রতিমাসে কম করে ৪লক্ষ টাকা আয় করতেন হরিরাম। বাড়ি ভাঙার ঘটনায় হরিরামের পাশাপাশি উর্মিলা ও মহেশ দু'জনকেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে হরিরাম ও উর্মিলাকে ১৪ দিনের এবং মহেশকে ২ দিনের জেল হেফাজত দিয়েছে আদালত।

৫ তলা বাড়িটির দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন হরিরাম ও তাঁর পুত্র মহেশ। এই বাড়ি থেকে প্রতিমাসে কম করে ৪লক্ষ টাকা আয় করতেন হরিরাম।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, হরিরামের আসল বাড়ি গুরুগ্রামে। দীর্ঘ বছর বায়ুসেনার সার্জেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর, ব্যবসা শুরু করেন তিনি। যার মধ্যে প্রধান ছিল এই পিজির ব্যবসা। জানা গিয়েছে, গুরুগ্রামে আরও ৪টি সম্পত্তি রয়েছে হরিরামের। তাঁর অন্য এক ছেলে পেশায় পাইলট। তবে এই ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনও যোগ নেই বলেই জানা যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, রবিবার দুপুর দেড়টা নাগাদ দিল্লির চাণক্যপুরীর কাছে মোতিবাগ এলাকায় ভারী বৃষ্টির জেরে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে বাড়িটি। স্থানীয়দের দাবি, ওই ভবনটিতে পড়ুয়ারা পেইং গেস্ট হিসেবে থাকতেন। রবিবার ছুটির দিন হওয়ায় বহু পড়ুয়াই বাড়িতে ছিলেন। এক প্রত্যক্ষদর্শীর কথায়, ওই বাড়িতে অন্তত ৫০ জন পড়ুয়া ছিলেন। এদিকে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, ওই এলাকায় একাধিক বাড়ি মেসবাড়ি বা পিজি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বেশিরভাগ বাড়ির নিচেই রয়েছে বেসমেন্ট। শুক্রবার থেকে টানা বৃষ্টির জেরে অভিশপ্ত এই বাড়ির নিচে জল জমেছিল। এরই মাঝে বেসমেন্টে চলছিল নির্মাণ কাজ। যার জেরেই ওই বহুতলের ভিত দুর্বল হয়ে সেটি ভেঙে পড়ে বলে অনুমান। এমনকী বাড়িটি নির্মাণের ক্ষেত্রেও নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছিল। পুরসভার দাবি, রেসিডেন্সিয়াল বিল্ডিংয়ের উচ্চতা সর্বাধিক ১৭.৫ মিটার হতে পারে। যদিও বাড়িটির উচ্চতা ছিল বেশি।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement