সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: গেরুয়া কেরলের স্বপ্ন দেখছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ। ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের আগে দলের ক্যাডারের সংখ্যা ব্যাপক বাড়াতে ঝাঁপাচ্ছে আরএসএস। সংগঠনের লক্ষ্য, ভোটের আগেই অন্তত ৯ লক্ষ হিন্দুকে সংঘ পরিবারের ছাতার নিচে টেনে আনা।
এই মুহূর্তে কেরলে আরএসএসের ৪৫০০-রও বেশি শাখা রয়েছে। ক্যাডারের সংখ্যা ৩০ হাজারেরও বেশি। অথচ, বিজেপির খাসতালুক গুজরাটে আরএসএসের শাখা রয়েছে মাত্র এক হাজারের কিছু বেশি। কেরলে আরএসএসের যুগ্ম সচিব এম রাধাকৃষ্ণণ বলছেন, ‘কেরলের শিক্ষিত আধুনিক যুবকদের কাছ থেকে প্রবল সমর্থন পেয়ে আমরা উদ্বুদ্ধ। অনেকেই আরএসএসে যোগ দিতে চাইছেন।’ তবে সংঘ পরিবার যে ৯ লক্ষ হিন্দুকে প্রত্যক্ষ নির্বাচনে নামানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, সে কথা মানতে চাননি তিনি। তাঁর বক্তব্য, আরএসএস কখনওই সংখ্যার খেলায় বিশ্বাসী নয়।
[আধারের তথ্য চুরি করছে মার্কিন গোয়েন্দারা! বিস্ফোরক উইকিলিকস]
আরএসএস থিংক ট্যাঙ্কের দাবি, এই মুহূর্তে কেরলের সংখ্যালঘু যুবকদের মধ্যে চরমপন্থী ইসলামিক সংগঠনগুলিতে যোগ দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। ভারত থেকে যে যুবকরা ইসলামিক স্টেট জঙ্গি সংগঠনে নাম লেখাচ্ছে তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই কেরলের বাসিন্দা। এর পাশাপাশি রয়েছে মুসলিম যুবকদের বিয়ে করে হিন্দু মহিলাদের মুসলিম ধর্ম গ্রহণের প্রবণতা। আরএসএস সমর্থকদের মারধর এমনকী হত্যার অভিযোগও রয়েছে বামেদের বিরুদ্ধে। এই সব প্রতিকূলতার মোকাবিলায় এবার সরাসরি ময়দানে নামতে চলেছে আরএসএস, জানাচ্ছেন সংগঠনের এক প্রবীণ নেতা। প্রতি জেলা থেকে আরও বেশি ক্যাডার তুলে আনতে আগ্রহী সংঘ পরিবার।
বিরোধীদের এভাবে ঘর গোছানোর উপর নজর রাখছে সিপিএমও। তবে মুখে সে কথা মানতে নারাজ বামেরা। বাম নেতারা বলছেন, এসবই আসলে নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহর ‘গিমিক’। কেরলের প্রভাবশালী বাম নেতা পি জয়রাজন বলছেন, ‘আমরা আরএসএস বা তাদের কোনও উদ্যোগকে নিয়ে বিন্দুমাত্র আগ্রহী নই। সংঘ পরিবারের যাবতীয় উদ্যোগের কথা মিডিয়াতেই প্রকাশিত হয়। বাস্তবে তার কোনও প্রতিফলন দেখতে পাওয়া যায় না।’ কিন্তু বাম নেতারা মুখে যাই বলুন না কেন, সিপিএম শিবিরে যে কাঁপুনি দেখা দিয়েছে, সে কথা মানছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ। কেরল থেকে বামেদের উৎখাত এখন বদ্ধপরিকর আরএসএস।
[তাজমহল মন্দির নয় স্মৃতিসৌধ, আদালতে জানাল এএসআই]
The post ২০১৯ লোকসভা ভোটের আগে ৯ লক্ষ আরএসএস ক্যাডার চায় সংঘ পরিবার appeared first on Sangbad Pratidin.
