মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ধাক্কায় সর্বকালের রেকর্ড ছুঁয়ে পড়ল টাকার দাম (Indian Rupee Depreciation)! সোমবার সকালে লেনদেনের শুরুতে এক মার্কিন ডলারের দাম দাঁড়িয়েছে ৯২.৩০ টাকা। বিশেষজ্ঞদের দাবি, বিশ্বব্যাপী সংঘাতের পরিস্থিতি, অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বিদেশী বিনিয়োগকারীদের বাজার থেকে অর্থ তুলে নেওয়া---এই কারণগুলিতে শেয়ার বাজারে যেমন রক্তক্ষয় হয়ে চলেছে, একই ভারে ভারতীয় মুদ্রা দুর্বল হচ্ছে।
গত ৪ মার্চ প্রথমবার মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ধাক্কায় টাকার দাম ৭০ পয়সা বেড়ে ৯২ টাকার গণ্ডি ছাপিয়ে যায়। মার্কিন ডলারের দাম দাঁড়ায় ৯২.১৭ টাকা। এবার তা সর্বকালের রেকর্ড ছুঁয়ে হল ৯২.৩০ টাকা। যুদ্ধ যদি অব্যাহত থাকে এবং অপরিশোধিত তেলের বৃদ্ধি পেতে থাকে, তবে টাকার আরও পতন হতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। উল্লেখ্য়, সোমবার সকালে সেনসেক্স পড়েছে ২,১৭৭.৬১ পয়েন্ট। অন্যদিকে নিফটি ৬৪৭.৬০ পয়েন্টে পড়েছে। শেয়ার বাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, যুদ্ধের বাজারে সবচেয়ে বেশি করে রক্তাক্ত হয়েছে ব্যাঙ্কিং , আইটি সেক্টর এবং ধাতব সংস্থার স্টকগুলি।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রিয়ারি ইরানের মাটিতে যৌথ হামলা চালায় আমেরিকা ও ইজরায়েল। কার্যত তছনছ হয়ে গিয়েছে তেহরান-সহ ইরানের একাধিক অঞ্চল। হামলায় মৃত্যু হয়েছে আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর। জবাবে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ছড়িয়ে থাকা আমেরিকার একাধিক সেনাঘাঁটি ও ইজরায়েলে হামলা চালাচ্ছে ইরান। কুয়েত, বাহরিন, ওমান, জর্ডন, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, সৌদি আরব, সিরিয়া, তুরস্কের উপর ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। যুদ্ধে ইরানে মৃতের সংখ্যা দু’হাজার ছাড়িয়েছে। রাশিয়া, চিন, স্পেন, ভারত-সহ একাধিক দেশ শান্তিপ্রস্তাব দিলেও কোনও পক্ষই যুদ্ধ থেকে সরতে রাজি নয়।
এই অবস্থায় গোটা বিশ্বের তেলের বাজার ক্ষতিগ্রস্ত। একে তো মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলিও সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে, অন্যদিকে বন্ধ হয়ে গিয়েছে হরমুজ প্রণালী। ফলে নতুন করে কোনও তেলবাহী জাহাজ ভারত মহাসাগরে ঢুকতে পারছে না। সব মিলিয়ে বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যের ঝুঁকি বাড়ছে। সাবধানী বিনিয়োগকারীরা বাজার থেকে অর্থ তুলে নিচ্ছেন। এই সব কিছুই প্রতিফলিত হচ্ছে শেয়ার বাজারে। প্রবাব পড়ছে টাকার দামেও।
