প্রথমে স্ত্রী। পরে বোন। পরপর দু'জনকে হত্যা করলেন এক ব্যাঙ্ক কর্মী। পরে তাঁরও দেহ উদ্ধার হয়। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, আত্মহত্যাই করেছেন তিনি। দাবি, এমনকী স্ত্রীকে খুনের পর হোয়াটসঅ্যাপ স্টেটাসেও তা ঘোষণা করেন ওই ব্যক্তি। গোটা ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য লখনউয়ে।
মৃত ব্যক্তির নাম মানস বাজপেয়ী। বৃহস্পতিবার তিনি তাঁর স্ত্রী দিব্যার অফিসে যান। জানা গিয়েছে, দিব্যা আইসিআইসিআই ব্যাঙ্কে চাকরি করতেন। অন্যদিকে মানস এসবিআই কর্মী। স্ত্রীকে অফিসের বাইরে ডেকে পাঠান তিনি। অভিযোগ, এরপরই তাঁকে গুলি করে হত্যা করেন তিনি। খুনের আগে নাকি বেশ কিছুক্ষণ কথাও হয় তাঁদের মধ্যে। গুলি চালানোর পরই তিনি এলাকা থেকে দৌড়ে পালান। দিব্যাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এদিকে মানস এরপর বাড়ি ফিরে তাঁর ২৮ বছরের বোন শিল্পা বাজপেয়ীকেও খুন করেন বলে পুলিশের দাবি। এদিকে ততক্ষণে পরিচিতদের নজরে পড়েছে মানসের হোয়াটসঅ্যাপ স্টেটাস। সেখানে তিনি লিখেছিলেন- 'আজ আমি আমার স্ত্রীকে খুন করেছি, যে আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছিল। এবার আমি নিজেকে ও আমার বোনকেও হত্যা করব। দিব্যার বোন প্রজ্ঞা ও ভারত সব জানে।' এরপর প্রতিবেশীরা দ্রুত মানসের বাড়ি গেলে দু'জনের দেহ উদ্ধার হয়।
বারো বছর আগে বিয়ে হয়েছিল মানস ও দিব্যার। কিন্তু গতবছর থেকেই তাঁরা আলাদা থাকেন। দিব্যা সেই সময়ই মানসের বিরুদ্ধে ডিভোর্সের মামলাও করেছিলেন। মানসের অভিযোগ ছিল, দিব্যা তাঁকে ঠকিয়েছেন।
গোটা ঘটনায় স্তম্ভিত এলাকাবাসীরা। মানসের বাড়ির সামনে অবস্থিত এক পানের দোকানের মালিক জানাচ্ছেন, বেলা সাড়ে বারোটা নাগাদ তিনি মানসকে বাড়ি ঢুকতে দেখেন। অভিযুক্ত তখন দরদর করে ঘামছেন। বাড়ি ফিরে তিনি কিছুক্ষণ হনুমান চালিশাও শোনেন বলে দাবি ওই দোকানদারের। পরে অবশ্য তিনি জানতে পারেন মানস সেখানে ঢোকার আগে কী 'কাণ্ড' করে এসেছেন। তিনি এবং বাকি প্রতিবেশীরা বিশ্বাসই করতে পারছেন না কী ঘটে গিয়েছে!
