অসমে কেন ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) হচ্ছে না? তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এ বার মামলা দায়ের হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। সেই মামলা খারিজ করে দিল শীর্ষ আদালত।
অসমের ক্ষেত্রে এসআইআর-এর পরিবর্তে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (স্পেশাল রিভিশন) করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। তাদের এই সিদ্ধান্তকেই চ্যালেঞ্জ করেই মামলা হয়েছিল। সেই মামলায় কমিশনের অবস্থান জানার পর প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের বেঞ্চ জানিয়েছেন, গত ১০ ফেব্রুয়ারি অসমে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হয়ে গিয়েছে।
বিহারের পর দ্বিতীয় দফায় পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের ১২টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর-এর সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। তার মধ্যে চার রাজ্যেই বিধানসভা নির্বাচন। একই সঙ্গে অসমেও ভোট হওয়ার কথা। কিন্তু সেখানে কেন এসআইআর হবে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল গুয়াহাটি হাই কোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রাক্তন সভাপতি মৃণালকুমার চৌধুরী। তাঁর বক্তব্য, অসমে তুলনামূলক লঘু মানের সংশোধনেরর নির্দেশ দিয়ে কমিশন স্বেচ্ছাচারী এবং বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। তাঁর আরও দাবি, অসমে প্রচুর অবৈধ অভিবাসী রয়েছেন। তাঁদের নামও বর্তমান ভোটার তালিকায় রয়েছে। এ অবস্থায় এসআইআর না-হলে আসন্ন বিধানসভা ভোটে এই অবৈধবাসীরাও ভোট দিতে পারবেন। এর ফলে অসমের সামাজিক এবং রাজনৈতিক কাঠামোর উপর ব্যাপক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা মামলাকারীর। অসমে এসআইআর না হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
যদিও এই বিতর্কে আগেই কমিশন নিজেদের অবস্থান জানিয়েছিল। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বক্তব্য ছিল, ভারতীয় নাগরিকত্ব আইনে অসম রাজ্যের জন্য আলাদা ধারা রয়েছে। জ্ঞানেশ ওই সময়ে আরও বলেন, ‘‘সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে অসমে নাগরিকত্বের যাচাইকরণ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আর গোটা দেশের জন্য এসআইআর সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি যেহেতু ২৪ জুন প্রকাশ করা হয়েছে, সেই কারণে অসমে তা প্রযোজ্য নয়।” পরে অসমে পৃথক ভাবে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন করার সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।
