সংঘর্ষবিরতিতে চাঙ্গা হয়েছিল বাজার। কিন্তু ইরান-আমেরিকা শান্তি বৈঠক ব্যর্থ হতেই ফের ধস নামল দালাল স্ট্রিটে। শনিবার ইসলামাবাদে নিস্ফলা বৈঠক হয় ইরান-আমেরিকার। তারপর থেকেই দুই দেশ একে অপরের অর্থনীতি এবং তেল রপ্তানির উপর আঘাত হানার হুমকি দিয়েছে। সেই বাগযুদ্ধের জেরে রক্তক্ষরণ শুরু হল ভারতের শেয়ার বাজারে (Share Market Today)। সোমবার বাজার খুলতেই ১৬০০ পয়েন্ট পড়ে যায় সেনসেক্সের সূচক। অন্তত ৮ লক্ষ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে বিনিয়োগকারীদের।
সোমবার সকালে বাজার খুলতেই সেনসেক্স পড়ে যায় ১৬১৩ পয়েন্ট। প্রায় ৫০০ পয়েন্ট পড়ে যায় নিফটির সূচকও। লোকসানের খাতায় চলে যায় একাধিক সংস্থার সূচক। তবে এমনটা যে হতে পারে সেটা আগে থেকেই আন্দাজ করেছিলেন বিনিয়োগ বিশ্লেষকরা। কারণ শান্তি বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার অর্থ মধ্যপ্রাচ্যে ফের যুদ্ধ শুরু। তার জেরে আবারও উর্ধ্বমুখী হবে তেলের দাম। টান পড়বে জ্বালানির জোগানে। একই সঙ্গে ইরানের তেল বা গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্র লক্ষ্য করে আমেরিকা যদি হামলা চালায় তাতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।
আশঙ্কা সত্যি করেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম ফের বেড়ে গিয়েছে সোমবার। তার নেতিবাচক প্রভাব ভারতের বাজারেও পড়েছে। কারণ চাহিদার সিংহভাগ তেলই ভারতকে আমদানি করতে হয়। হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরানের পাশাপাশি এবার আমেরিকাও 'অবরোধ' শুরু করেছে। সোমবার সন্ধে থেকে কার্যকর হবে মার্কিন অবরোধ। সবমিলিয়ে ভূরাজনীতিতে প্রবল অনিশ্চয়তা। তারই ফল ভুগছে ভারতের শেয়ার বাজার। যুদ্ধের জেরে প্রত্যেক দিন বিপুল পরিমাণ সম্পদ খোয়াচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। তবে বেলা বাড়তে অনেকটাই ঘুরে দাঁড়িয়েছে শেয়ার বাজার। প্রায় ৮০০ পয়েন্ট উন্নতি হয়েছে সেনসেক্সের সূচকে। কিন্তু এখনও লোকসানেই চলছে বাজার।
এহেন পরিস্থিতিতে বিনিয়োগ নিয়ে কী পদক্ষেপ করা উচিত? বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নিজেদের শেয়ার আপাতত বিক্রি না করে ধৈর্য্য ধরা উচিত। বরং কোন সংস্থায় লগ্নি করলে অপেক্ষাকৃত কম লোকসান হচ্ছে, সেদিকে নজর রাখা দরকার। এককালীন বিনিয়োগ না করে মাসিক বিনিয়োগের উপরেও জোর দেওয়া যেতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পরেও ঘুরে দাঁড়িয়েছিল ভারতের বাজার। তারপর লাগাতার উন্নতি হয় দালাল স্ট্রিটের সূচকে। এবারও তেমনটা ঘটতেই পারে, আশাবাদী অনেকেই।
