পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জেরে ভারতে আরও গভীর হচ্ছে সংকটের মেঘ। হুড়মুড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে টাকার দাম। গুরুতর এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বয়ান তুলে ধরে তাঁকে নিশানা করল শিবসেনার উদ্ধব শিবির। দলের সাংসদ সঞ্জয় রাউত বললেন, "মোদিজি এবার তো ঝোলা তুলুন, এবং বিদেয় হন।" তাঁর আরও কটাক্ষ, "দেশে মুদ্রাস্ফীতি লাগামছাড়া অথচ মোদিজি রাজ্যনীতিতে ব্যস্ত।"
রবিবার দিল্লিতে এক সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত হয়ে রাউত বলেন, "আবকি বার ১০০ পার... মোদিজি কোথায়?" এরপর নিজেই উত্তর দিয়ে বলেন, "উনি এখন পশ্চিমবঙ্গে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারাতে রাষ্ট্রপতি শাসনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মোদি-শাহ ওখানে খেলা দেখানোর তোড়জোড় শুরু করেছেন। এদিকে টাকার দাম হুড়মুড়িয়ে নিচে নামছে। উনি যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন বলেছিলেন, 'যখন টাকার দামের পতন হয় তখন দেশের বিশ্বাস ও সুনামের পতন ঘটে।' তাহলে এখন কীসের পতন হচ্ছে?" এরপরই প্রধানমন্ত্রীর পুরনো ডায়ালগের রেশ ধরেই শিবসেনা সাংসদ বলেন, "এবার তো ঝোলা কাঁধে তুলে বিদেয় হোন।" উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের নির্বাচনী প্রচারে প্রধানমন্ত্রীকে বলতে শোনা গিয়েছিল, "হাম তো ফকির আদমি হ্যায়, ঝোলা লেকে চল পড়েঙ্গে।" অর্থাৎ "আমি ফকির মানুষ, যে কোনও দিন ঝোলা কাঁধে বেরিয়ে যাব।"
"টাকার দাম হুড়মুড়িয়ে নিচে নামছে। উনি যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন বলেছিলেন, 'যখন টাকার দামের পতন হয় তখন দেশের বিশ্বাস ও সুনামের পতন ঘটে।' তাহলে এখন কীসের পতন হচ্ছে?"
সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সঞ্জয় আরও বলেন, দেশে টাকার দামের পতন ও মুদ্রাস্ফীতির দায় কোনওভাবেই পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ নয়। মোদি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে লাগাতার টাকার পতন চলছে। অথচ সরকার নীরব। টাকার দামে পতনে শুধু মুদ্রা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, দেশের বিশ্বাসযোগ্যতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যেভাবে ভারতের অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং রুপির ক্রমাগত পতন হচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে নরেন্দ্র মোদি আর দেশ পরিচালনায় সক্ষম নন। আজ যুদ্ধ চলছে, কিন্তু আগে তা ছিল না। প্রধানমন্ত্রী এখনও নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত এবং এসব নিয়ে তাঁর কোনও মাথাব্যথা নেই।"
