সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ভোটের আগে বড় সিদ্ধান্ত মোদি সরকারের৷ সব রকমের খারিফ শস্যের ন্যূনতম সমর্থন মূল্য বা এমএসপি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল সরকার৷ মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে ধান, গম, ভুট্টা, জোয়ার, বাজরা, রাগি-সহ বেশ কিছু ফসলের ন্যূনতম সমর্থন মূল্য কয়েকশো টাকা করে বাড়িয়ে দেওয়া হল৷
একনজরে দেখে নেওয়া যাক সরকারের বর্ধিত দামের তালিকা-
ধান : ১৭৫০ প্রতি কুইন্টাল
জোয়ার: ২৪৩০ টাকা প্রতি কুইন্টাল
বাজরা: ১৯৫০ টাকা প্রতি কুইন্টাল
রাগি: ২৮৯৭ টাকা প্রতি কুইন্টাল
অড়হড়: ৫৬৭৫ টাকা প্রতি কুইন্টাল
মুগ: ৬৯৭৫ টাকা প্রতি কুইন্টাল
কার্পাস: ৫১৫০ টাকা প্রতি কুইন্টাল
বাদাম: ৪৮৯০ টাকা প্রতি কুইন্টাল
সূর্যমুখী: ৫৩৮৮ টাকা প্রতি কুইন্টাল
সোয়াবিন: ৩৩৯৯ টাকা প্রতি কুইন্টাল
তিল: ৬২৪৯ টাকা প্রতি কুইন্টাল
[ভোটে হিংসা রুখতে নয়া উদ্যোগ, অভিযোগ জানানোর জন্য অ্যাপ আনল নির্বাচন কমিশন]
২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার আগে স্বামীনাথন কমিশনের সুপারিশ চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷ কিন্তু গত চার বছর সে লক্ষ্যে খুব একটা এগোতে পারেনি সরকার৷ এর মধ্যে দেশজুড়ে বেড়েছে কৃষক আন্দোলন৷ বেড়েছে কৃষকদের আত্মহত্যার খবর৷ ঋণ মকুবের দাবিতে ক্রমাগত আন্দোলন করেছেন কৃষকরা৷ কৃষকদের আন্দোলনে তাল দিয়েছে বিরোধীরাও৷ বারবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী৷ নির্বাচনগুলিতেও দেখা গিয়েছে কৃষক অধ্যুষিত এলাকায় বিজেপির তুলনায় ভাল ফল করছে কংগ্রেস৷ কর্ণাটক তো বটেই উপনির্বাচনগুলিতে বিজেপির হারের পিছনে অনেকে কৃষক অসন্তোষকেই দায়ী করছিলেন৷
[সরকারের কাজে হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না উপরাজ্যপাল, সুপ্রিম স্বস্তিতে কেজরি]
কৃষক ইস্যুতে সরকার যখন কার্যত কোণঠাসা তখনই মাস্টারস্ট্রোক দিলেন প্রধানমন্ত্রী৷ প্রতিশ্রুতিমতো বাড়ানো হল ফসলের দাম৷ সরকারের দাবি, এরপর থেকে প্রতিটি ফসলের ক্ষেত্রেই উৎপাদন মূল্যের অন্তত দেড়গুণ দাম পাবেন কৃষকরা৷ এর ফলে ২০২২ সালের মধ্যে কৃষকদের রোজগার দ্বিগুণ করার যে প্রস্তাব সরকার দিয়েছে তা বাস্তবায়িত হবে৷ যদিও, নতুন ন্যূনতম মূল্য নিশ্চিত করতে হলে সরকারের কোষাগার থেকে যে ব্যাপক ক্ষতি হবে তা কীভাবে পূরণ হবে তাঁর কোনও সদুত্তর মেলেনি৷ তাছাড়া ফসলের দাম বাড়লে যে মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা থেকে যায় তা রুখতে কী পদক্ষেপ করা হবে তাও স্পষ্ট নয়৷
