বন্দুকধারী নয়, দেশে অশান্তি ছড়াচ্ছে 'মানসিক' নকশালরা! স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এবার সেই নিয়ে তরজায় জড়ালেন প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু। এক্স হ্যান্ডেলে বাক্যবাণ ছুড়েছেন দুই রাজনীতিকই।
শনিবার স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বক্তৃতা দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "দেশের অলিগলিতে মাওবাদীরা ঘাপটি মেরে বসে রয়েছে। জঙ্গলের বন্দুকধারী নকশালদের শেষ করা গেছে। কিন্তু দিমাগি নকশালরা সুযোগের অপেক্ষা করছে। হিংসা ছড়ানোর রাস্তা খুঁজছে, সমাজকে ভুল পথে চালানোর চেষ্টা করছে। এদের চিনতে হবে, একঘরে করতে হবে। বিকশিত রাষ্ট্র বানাতে যুবদের জুড়তে হবে। সুরক্ষিত ভারত তৈরি আমাদের সংকল্প।" প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সাড়ে ৩ হাজারের বেশি পুলিশ কর্মী শহিদ হয়েছেন মাওবাদী হামলায়। যুদ্ধের চেয়ে বেশি মাওবাদী হামলা দেশের মাটিকে রক্তাক্ত করেছে।
কিন্তু এই 'দিমাগি নকশাল' বলতে ঠিক কাদের বোঝাতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী? সেই বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার আগেই শুরু হয়েছে বাকযুদ্ধ। এক্স হ্যান্ডেলে চিদম্বরম স্পষ্ট লিখে দেন, 'দিমাগি নকশাল হতে পেরে আমি গর্বিত'। এই বার্তার পরেই নেটদুনিয়ায় আলোচনা শুরু হয়, তাহলে কি বিরোধীদের নকশাল বলে আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী? রাজনৈতিকভাবে বিজেপি বিরোধিতা করার অর্থ কি নকশাল হওয়া? কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রিজিজু সাফ জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী মোটেও বিরোধীদের 'দিমাগি নকশাল' বলেননি।
কাদের এই 'দিমাগি নকশাল' বলে অভিহিত করা যায়? সেটার তালিকাও নিজের এক্স হ্যান্ডেলে তুলে ধরেছেন রিজিজু। তাঁর কথায়, ভারতীয় সংবিধানকে উপেক্ষা করে যারা মাওবাদীদের সমর্থন করে, বিচ্ছিন্নতাবাদীদের পাশে দাঁড়িয়ে যারা ৩৭০ ধারাকে সমর্থন করে, চিকেনস নেক বন্ধ করে যারা উত্তরপূর্ব ভারতকে বিচ্ছিন্ন করে দিতে চায়-এদেরই দিমাগি নকশাল বলা হয়, মত রিজিজুর। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এই শর্তাবলির আওতায় কি বিরোধী রাজনীতিবিদরাও পড়ছেন?
