এ যেন খাদ ডিঙিয়ে একলাফে পাহাড় চূড়ায়! মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিপুল শুল্কের খাঁড়া ভারতের ঘাড় থেকে সরাতেই খুশির জোয়ারে ভাসল দালাল স্ট্রিট। মঙ্গলবার একধাক্কায় প্রায় ২৫০০ পয়েন্ট বাড়ল সেনসেক্স। পাল্লা দিয়েছে বেড়েছে নিফটিও। শেয়ার বাজারের এহেন উত্থানে যারপরনাই খুশি বিনিয়োগকারীরা।
সোমবার রাতে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি ও শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনার ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলে প্রত্যাশিত ছিল বাজেটের ধাক্কা পেরিয়ে মঙ্গলে গ্রিন সিগন্যালে ছুটবে শেয়ার বাজার। তবে প্রত্যাশার চেয়েও এদিন বিরাট উত্থান হয় বাজারে। বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গে ৩৬৪৭ পয়েন্ট অর্থাৎ ৪.৪৭ শতাংশ বাড়ে সেনসেক্স। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছুটা নিচে নামলেও বিরাট অঙ্কে ট্রেড করতে থাকে। সকাল ১০.৫০ নাগাদ সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, সেনসেক্স ট্রেড করছে ২২২৯.৮৬ (+২.৭৩ %) পয়েন্টে। যার জেরে ৮৩,৮৯৬.৩২ পয়েন্টে পৌঁছে গিয়েছে সেনসেক্স। পিছিয়ে নেই নিফটিও। রিপোর্ট বলছে, ৬৭২.১০ পয়েন্ট বেড়েছে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ বা নিফটির সূচক। যার জেরে ২.৬৮ শতাংশ বেড়ে নিফটি পৌঁছে যায় ২৫,৭৬০.৫০তে।
সকাল ১০.৫০ নাগাদ সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, সেনসেক্স ট্রেড করছে ২২২৯.৮৬ (+২.৭৩ %) পয়েন্টে। যার জেরে ৮৩,৮৯৬.৩২ পয়েন্টে পৌঁছে গিয়েছে সেনসেক্স।
যে শেয়ারগুলিতে সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গিয়েছে সেগুলি হল, আদানি এন্টারপ্রাইস, আদানি গ্রিন, আদানি এনার্জি, লোধা, ওয়ারি এনার্জি, গোদরেজ। ৭ শতাংশ থেকে ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এই শেয়ারগুলি। পাশাপাশি এই ভরা বাজারেও পতন লক্ষ্য করা গিয়েছে ভারত পেট্রোলিয়াম, ওএনজিসি, কোল ইন্ডিয়া, হিন্দুস্থান জিঙ্ক, এশিয়ান পেন্টের মতো শেয়ারগুলি। ১ থেকে ২ শতাংশ পতন দেখা গিয়েছে শেয়ারগুলিতে।
শুধু শেয়ার বাজার নয়, টাকার দামেও ব্যাপক বৃদ্ধি লক্ষ্য করা হয়েছে। গতকাল ডলার ৪৪ পয়সা পড়ে হয় ৯১.৪৯ টাকা। এর পর গভীর রাতে ইন্দো-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণা হতেই আরও ১.২ শতাংশ শক্তি বাড়ল টাকা। মঙ্গলবার ডলার ১.০৯ টাকা পড়ে হল ৯০.৪০ টাকা। উল্লেখ্য, দীর্ঘ টালবাহানা শেষে ভারতের সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। ভারতের উপর শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করেছে আমেরিকা। এর জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু শর্তে মন গলল ট্রাম্পের? গতকাল তা নিজেই জনিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি দাবি করেছেন, রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে রাজি হয়েছে দিল্লি। পরিবর্তে আমেরিকার থেকে তেল কিনবে ভারত। এছাড়াও আমেরিকা থেকে ৪৫ লক্ষ ২৫ হাজার ৬২২ কোটি টাকার পণ্যও ভারত কিনবে বলে কথা দিয়েছেন মোদি। এই শর্তেই নাকি ইন্দো-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। ইতিমধ্যে এই বিষয়টিকে সামনে এনে কটাক্ষ করছে কংগ্রেস-সহ অন্য বিরোধী দলগুলি।
