সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: এলপিজি সিলিন্ডারে ভরতুকি তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তে গৃহস্থের মাথায় হাত। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে স্বভাবতই কোপ পড়তে চলেছে মধ্যবিত্তের হেঁশেলে। সরকারি ঘোষণার পরই দেশ জুড়ে সমালোচনার ঝড়। প্রতিবাদে উত্তাল হল সংসদও। মঙ্গলবার কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সংসদের উচ্চকক্ষে তুমুল বিক্ষোভ দেখায় বিরোধীরা। হই-হট্টগোলে কার্যত ভণ্ডুল হয়ে যায় রাজ্যসভার অধিবেশন। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি এদিন ভরতুকি তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তের জেরে সরকারপক্ষের বক্তব্য দাবি করে। পেট্রলিয়াম মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান তবে এদিন বিরোধীদের মুখ বন্ধ করতে আসরে নামেন। সরকারপক্ষের হয়ে এই ইস্যুতে বক্তব্য রাখেন মন্ত্রী। বলেন, ভরতুকি এখনই বন্ধ হচ্ছে না। তবে এই ভরতুকিকে ধাপে ধাপে পুনর্গঠন করা হবে। কিন্তু মন্ত্রীর এই যুক্তি মানতে নারাজ কংগ্রেস-সহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলি। এদিন উত্তর দিনাজপুরে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রকে তুলোধোনা করে বলেন, এলপিজির ভরতুকি বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে কেন? গরিব মানুষের কথা কেন্দ্রীয় সরকার ভাবে না। এতে সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়বেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভরতুকি তুলে দেওয়ার জন্য কেন্দ্রকে কটাক্ষ করেন মমতা।
[মধ্যবিত্তের মাথায় হাত, রান্নার গ্যাসে উঠে যাচ্ছে ভরতুকি]
মঙ্গলবার প্রধানের বক্তব্য, ২০১০ সালে একটি কমিটি গঠিত হয়েছিল যার অধ্যক্ষ ছিলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। এই কমিটিতে শরদ পওয়ার, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মুরলী দেওরার মতো নেতা-নেত্রীরা ছিলেন। কমিটি তখন সিদ্ধান্ত নেয়, ধীরে ধীরে এলপিজি সিলিন্ডার থেকে ভরতুকি তুলে নেওয়া হবে এবং সিলিন্ডারের দাম বাড়ানো হবে। আগে দেশে ১৪ কোটি সিলিন্ডার ছিল। যা এখন বেড়ে ২২ কোটি হয়ে গিয়েছে। এরপরই প্রধান সওয়াল করেন, ভরতুকি ধনীদের জন্য নয়, গরিবদের জন্য। কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত, পেট্রল-ডিজেলের দাম রোজ বাড়ার কারণে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের দামও প্রতি মাসে বাড়ানোর। সরকার ভরতুকিযুক্ত সিলিন্ডারের দাম পরের বছর মার্চ পর্যন্ত প্রতি মাসে ৪ টাকা করে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যাতে পরের বছর মার্চ মাস পর্যন্ত সিলিন্ডার থেকে ভরতুকি তুলে নেওয়া যায়।
[সেভিংস অ্যাকাউন্টে সুদের হার কমাল এসবিআই ]
প্রসঙ্গত, ধর্মেন্দ্র প্রধান গতকালই লোকসভায় এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার থেকে ধীরে ধীরে ভরতুকি তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তর কথা বলেন। প্রতি মাসে সিলিন্ডারের দাম ৪ টাকা করে বাড়ানোর কথাও জানা তিনি। উল্লেখ্য, বর্তমান নিয়মে কোনও গ্রাহক বছরে ১২টি সিলিন্ডার ভরতুকিতে পান। তার বেশি চাইলে তাঁকে বাজার দরে কিনতে হয়। দিল্লিতে ভরতুকিযুক্ত ১৪.২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৪৭৭ টাকা। ভরতুকি ছাড়া সিলিন্ডারের দাম ৫৬৪টাকা। কেন্দ্র এই ব্যবধান মুছে দিতে চাইছে। পাশাপাশি ৫ কেজি গ্যাসের সিলিন্ডারেও একইভাবে ভরতুকি উঠে যাবে। ১০ লক্ষ টাকার ওপর বার্ষিক রোজগার হলে ভরতুকি তুলে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিল কেন্দ্র। এবার ভরতুকি ছাঁটাইয়ের জন্য রোজগার আর মাপকাঠি থাকছে না। গত মার্চে কেন্দ্র জানিয়েছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আবেদনে প্রায় ৭ লক্ষ গ্রাহক ভরতুকি ছেড়ে দেন। এই মুহূর্তে দেশে প্রায় ১৮ কোটি ১১ লক্ষ গ্রাহক ভরতুকিযুক্ত সিলিন্ডার ব্যবহার করেন। শুধু ভরতুকির জন্য মোটা টাকা কোষাগার থেকে বেরিয়ে যায়। এই যুক্তি দেখিয়ে ভরতুকির দরজা চিরতরে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র।
The post সিলিন্ডারে এখনই উঠছে না ভরতুকি, হাঙ্গামার মধ্যে সংসদে সাফাই মন্ত্রীর appeared first on Sangbad Pratidin.
