এসএসসি মামলায় (SSC Case) চাকরিহারাদের বয়সের ছাড় সংক্রান্ত কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে স্থগিতাদেশ দিল সু্প্রিম কোর্ট। সোমবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানির জন্য ওঠে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কুমার ও বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের বেঞ্চে। তাতে বিচারপতিরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যোগ্য অথচ ২০১৬ সালের পরীক্ষায় সুযোগ না পাওয়া চাকরিপ্রার্থীদেরও বয়সে ছাড় দিতে হবে, এমন কোনও নির্দেশ নেই। এনিয়ে সব পক্ষের কাছে নোটিস জারি করেছে শীর্ষ আদালত। পরবর্তী শুনানি মার্চ মাসে।
বিচারপতিরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যোগ্য অথচ ২০১৬ সালের পরীক্ষায় সুযোগ না পাওয়া চাকরিপ্রার্থীদেরও বয়সে ছাড় দিতে হবে, এমন কোনও নির্দেশ নেই। এনিয়ে সব পক্ষের কাছে নোটিস জারি করেছে শীর্ষ আদালত। পরবর্তী শুনানি মার্চ মাসে।
২০১৬ সালে রাজ্যে শিক্ষক-অশিক্ষক নিয়োগে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি হয়েছে, এই বলে গোটা প্যানেল বাতিল করে দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। রাতারাতি চাকরি হারান প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী। বাতিল হওয়া শূন্যপদে নতুন করে নিয়োগের নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত। সেইমতো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই স্কুল সার্ভিস কমিশন পরীক্ষা গ্রহণ করে নিয়োগের ব্যবস্থা করে। তবে তা নিয়েও আইনি জটিলতা রয়েছে। যাঁরা যোগ্য অর্থাৎ 'দাগি' নন, নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে তাঁরা বয়সের ছাড়ের আবেদন নিয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। হাই কোর্টের নির্দেশ ছিল, যে চাকরিপ্রার্থীরা ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সুযোগ পাননি, তাঁদেরও বয়সে ছাড় দেওয়া হবে। এনিয়ে আদালতের যুক্তি ছিল, যাঁরা পরীক্ষায় পাশ করতে পারেননি অর্থাৎ Unselected এবং 'দাগি'ও নন, তাঁদের কোনও তালিকা নেই। তাই ধরে নিতে হবে নতুন প্রক্রিয়ায় শুধু তালিকায় থাকা 'দাগি'রাই বাদ যাবে। বাকি কেউ 'দাগি' না হওয়ায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ছাড় পাওয়ার যোগ্য।
এর বিরোধিতায় শীর্ষ আদালতে মামলা হয়। বিচারপতি সঞ্জয় কুমার ও বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের বেঞ্চে শুনানি ছিল সোমবার। সওয়াল-জবাবের সময়ে এসএসসি-র আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, একাদশ-দ্বাদশের নিয়োগ প্রক্রিয়াও সম্পন্ন। দু-একদিনের মধ্যেই যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ হয়ে যাবে। মামলাকারীদের তরফে আইনজীবী শীর্ষ আদালতকে হাই কোর্টের রায় ও সুপ্রিম কোর্টের পুরনো রায় ব্যাখ্যা করে বোঝাতে চান, কোন যুক্তিতে যোগ্য, বঞ্চিত, ২০১৬ সালের পরীক্ষায় সুযোগ না পাওয়া প্রার্থীরাও বয়সের নিরিখে আদালতের নির্দেশে 'ছাড়' পাওয়ার যোগ্য। এরপরই বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের পর্যবেক্ষণ, আদালত কখনও বলেনি যে যোগ্য অথচ পরীক্ষায় পাশ না করা প্রার্থীদেরও ছাড় দিতে হবে।
এই যুক্তিতে হাই কোর্টের বয়সের ছাড় সংক্রান্ত রায়ে স্থগিতাদেশ জারি করল সুপ্রিম কোর্ট। সব পক্ষকে নোটিস জারি করা হল। পরবর্তী শুনানি মার্চ মাসে। এদিন শীর্ষ আদালতের নির্দেশের পরও সওয়াল চালিয়ে যেতে চান বামমনস্ক আইনজীবী ফিরদৌস শামিম। তাঁর আচরণে 'বিরক্ত' সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে ভর্ৎসনা করে শৃঙ্খলারক্ষা করার বার্তা দেয়।
