ধর্মান্তরণ কাণ্ডে এবার মুখ খুলল টিসিএস। দেশজুড়ে তোলপাড় ফেলে দেওয়া ঘটনা নিয়ে সংস্থাটি জানিয়েছে, নাসিকের ওই অফিসে কোনও অপরাধমূলক কাজ চলছে বলে অভিযোগ আসেনি। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, প্রধান অভিযুক্ত নিদা খান এইচ আর ম্যানেজার ছিলেন না। অফিসের নেতৃস্থানীয় কোনও পদও তাঁকে দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে নিদার পরিবারের দাবি, দিনকয়েক আগে নাসিকের জ্যোতিষী বিতর্ক থেকে নজর ঘোরাতে নিদার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে।
দিনকয়েক আগে অভিযোগ ওঠে নাসিকের টিসিএস অফিসে কর্পোরেট জেহাদ চলছে। সেখানে মহিলা কর্মীদের জোর করে ধর্মান্তরণের চেষ্টা চলছে, হিন্দু কর্মীদের আমিষ খাবার খেতে বাধ্য করা হচ্ছে, একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে-এমন নানা অভিযোগ ওঠে। টিসিএস নাসিকের অন্তত ৯ জন মহিলা কর্মী এই অভিযোগ আনেন। গত দুই থেকে তিন বছর ধরে তাঁদের উপর নির্যাতন চলেছে বলে অভিযোগ। ইতিমধ্যেই ৬ জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মূল অভিযুক্ত হিসাবে উঠে আসা নিদা খান অবশ্য এখনও পলাতক।
পুলিশি তদন্তের মধ্যেই এবার গোটা বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছে টিসিএস। সংস্থার তরফ থেকে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, 'নাসিক অফিসের নানা রেকর্ড এবং অন্যান্য সিস্টেম আমরা প্রাথমিকভাবে খতিয়ে দেখেছি। কিন্তু সেখান থেকে আমরা কোনও অভিযোগ পাইনি। ধর্মান্তর বা যৌন হেনস্তার যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেই নিয়ে সংস্থার অন্দরে কোনও অভিযোগ আনা হয়নি।' সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, নিদাকে কোনও দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। প্রসেস অ্যাসোসিয়েট হিসাবে কাজ করতেন তিনি।
নিদার পরিবারের দাবি, কয়েকদিন আগে নাসিকে ৫৮ জন গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে অশোক খারাত নামে এক জ্যোতিষী গ্রেপ্তার হয়েছেন। সেই ঘটনা থেকে নজর ঘোরাতে নিদার ঘটনাটি সাজানো হয়েছে ষড়যন্ত্র করে। ইতিমধ্যেই আগাম জামিন চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন নিদা। তাঁর বাড়িতে স্বামী এবং অন্যান্য সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। তবে নিদা এখনও পলাতক। তিনি অন্তঃসত্ত্বা, এই মর্মে আগাম জামিন চেয়েছেন নিদা। অন্যদিকে গোটা ঘটনায় অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে টিসিএস। অভিযুক্তদের সাসপেন্ডও করা হয়েছে।
