Advertisement
২৫০০ কোটির সম্পত্তিতে লোভ নেই! গ্রামে ৪৫০০ মাইনের চাকরি করছেন অক্ষয়পুত্র, কেন জানেন?
দেশে-বিদেশে বাবার কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি থাকতেও গ্রামেগঞ্জে ঘুরে যৎসামান্য মাসমাইনের কাজ করছেন আরব ভাটিয়া। কী করেন তিনি?
সেলেব সন্তানদের নিয়ে বরাবরই ভক্তমহলে কৌতূহলের অন্ত নেই। সুপারস্টার মা-বাবার মতো স্টারকিডদের গতিবিধিতেও নজর থাকে তাদের। এবার চর্চায় অক্ষয় কুমার, টুইঙ্কল খান্নার পুত্র আরব ভাটিয়া। দেশে-বিদেশে বাবার কারি কারি সম্পত্তি থাকতেও গ্রামেগঞ্জে ঘুরে যৎসামান্য মাসমাইনের কাজ করছেন তিনি। কিন্তু কেন?
সাধারণত মা-বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করে স্টারকিডদের সিনেদুনিয়ায় পা রাখার কথা শোনা যায়। সেই তালিকায় শাহরুখ খান, রবিনা টন্ডন থেকে শুরু করে একাধিক তারকাসন্তান রয়েছেন। ইন্ডাস্ট্রির ভাষায় যাকে বলা হয়, 'স্বজনপোষণ' কিংবা 'নেপোটিজম'। কিন্তু আরভ ব্যতিক্রমী। তারকাখচিত গ্ল্যামারদুনিয়া তাঁকে টানে না।
মাত্র পনেরো বছর বয়সেই বাবা অক্ষয় কুমারের তিল তিল করে গড়ে তোলা প্রাসাদোপম বাংলোর আতিশয্য ত্যাগ করে নিজের প্যাশনের টানে ছুটেছিলেন আরব। মা টুইঙ্কল লেখিকা। দীর্ঘদিন আগেই বলিউডের পর্দা থেকে সরে লেখালেখির দুনিয়ায় খ্যাতিলাভ করেছেন। তাই উদারমনস্ক দম্পতি সন্তানের সিদ্ধান্ত নিয়ে কাটাছেঁড়াও করেননি।
অক্ষয় কুমার যদিও চান যে ছেলে তাঁর প্রযোজনা সংস্থার দেখভাল করুক কিংবা দায়িত্ব নিক। কিন্তু আরবের সেসবে ধ্যান নেই। সে বরং নিজের প্যাশন নিয়ে ব্যস্ত। ফ্যাশন দুনিয়ায় নিজের পায়ের তলার মাটি শক্ত করতে চান অক্ষয়পুত্র। সেইজন্যই 'ধনকুবের' বাবার সম্পত্তির প্রতি তাঁর কোনও মোহ নেই। আরব বরং গ্রামে গ্রামে ঘুরে দিব্যি কাজ শিখছেন।
একাধিক সাক্ষাৎকারে ছেলেকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন খিলাড়ি! তাঁর মন্তব্য, আরব বড়ই সরল। মানুষ চিনতে ভুল করেন। অথচ খিলাড়ির 'বৈসয়িক স্ট্র্যাটেজি' নিয়ে সিনেপাড়ায় বিস্তর আলোচনা। তিন দশকের কেরিয়ারে দেশে-বিদেশে ২৫০০ কোটির সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন। কিন্তু সেসবের প্রতি কোনও লোভই নেই আরবের! 'ভূত বাংলা'র প্রচারে নিজেই সেকথা ফাঁস করলেন অভিনেতা।
অক্ষয় কুমার জানান, "আমার ছেলে একেবারেই সিনেমা নিয়ে আগ্রহী নয়। বেচারা মাত্র সাড়ে ৪ হাজার টাকা মাসমাইনের চাকরি করে। আমি মনে করি, এটা খারাপ কিছু না। আসলে আরবের ফ্যাশনের প্রতি ঝোঁক রয়েছে। সেই জন্যেই বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে ঘুরে ও ব্লক প্রিন্ট কিংবা এই জাতীয় নানা ধরনের কাজ শেখে।" এক্ষেত্রে ছেলেকে কী পরামর্শ দেন খিলাড়ি?
অক্ষয় বলছেন, "আমি আরবকে বলেছি, যা ইচ্ছে হয় তাই করো, কিন্তু কোনওদিন কারও ক্ষতি কোরো না।" এখানেই শেষ নয়, ব্যক্তিগতজীবন হোক কিংবা পেশা, ছেলে কতটা স্বাবলম্বী? সেকথাও ভাগ করে নেন অভিনেতা। অক্ষয় জানান, "আরব নিজের কাজ নিজে করতেই ভালোবাসেন। সে রান্না করা হোক কিংবা, জামাকাপড় কাচা। সব একাই করে।"
খিলাড়ি এও জানান যে, ফ্যাশনের প্রতি আগ্রহ থাকলেও দামি পোশাক-আশাক নিয়েও কোনও আগ্রহ নেই। পুরনো জিনিসপত্র ফেলে না দিয়ে আরব নাকি সেগুলো দোকানে বিক্রি করে বদলে পুরনো জামা কিনে আনেন। আর সেসব পরতেও স্বচ্ছন্দ্য বোধ করেন। কতটা মাটির মানুষ হলে স্টারকিড হয়েও এভাবে থাকা যায়, তার উদাহরণ আরব ভাটিয়া।
অক্ষয়-টুইঙ্কল পুত্রর বয়স বর্তমানে ২৪। সোশাল মিডিয়ায় তাঁর সুদর্শন চেহারা দেখে অনেকেই আরবকে মডেল-অভিনেতা হিসেবে দেখার ইচ্ছেপ্রকাশ করেন। কিন্তু খিলাড়িপুত্র লাইমলাইটের দুনিয়া থেকে শতহস্ত দূরে। থাকেন মার্কিন মুলুকে। সেখানেই নিজের মতো করে কাজ খুঁজে নিয়েছেন তিনি। শিক্ষানবীশ হিসেবে মাঝেমধ্যেই প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঢুঁ মারতে হয় তাঁকে। তবে মাইনে বড়ই যৎসামান্য! (ছবি- সংগৃহীত)
Published By: Sandipta BhanjaPosted: 05:58 PM Apr 18, 2026Updated: 05:58 PM Apr 18, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
