সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: মারাঠা রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ। দু'দশক বাদে ফের একমঞ্চে উদ্ধব ঠাকরে এবং রাজ ঠাকরে। মারাঠি অস্মিতাকে সামনে রেখে নিজেদের বিবাদ মিটিয়ে ফেললেন বালাসাহেব ঠাকরের ছেলে উদ্ধব এবং ভাইপো রাজ। ২০ বছর বাদে এক মঞ্চে এসে দুই ভাই যে বার্তা দিলেন, সেটাও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। দুই ভাই-ই বুঝিয়ে দিলেন, তাঁদের পয়লা নম্বর শত্রু বিজেপি।
ঠাকরে পরিবারে ভাঙনের দু'দশক হতে চলল। সেই ২০০৫ সালে শিব সেনা ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন রাজ ঠাকরে। ২০০৬ সালে নিজের দল গড়েন বালাসাহেব ঠাকরের ভাইপো। তারপর সেভাবে উদ্ধবের পরিবারের ছায়াও মাড়াতে দেখা যায়নি রাজকে। নিতান্তই পারিবারিক বা অন্য কোনও অনুষ্ঠানে দেখা হয়ে গেলে একে অপরকে উপেক্ষা করারই চেষ্টা করেন দুই তুতো ভাই। কিন্তু শনিবার অন্য ছবি দেখা গেল। মুম্বইয়ের জনসভায় দুই ভাই শুধু একসঙ্গে দেখা দিলেন তা-ই নয়। আগামী দিনে একসঙ্গে লড়াই করার অঙ্গীকারও করে গেলেন।
দুই ভাইয়ের মধ্যের বিবাদ ঘুচতে শুরু করেছিল মহারাষ্ট্রের দেবেন্দ্র ফড়ণবিসের সরকার 'ত্রিভাষা' নীতি। হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগে একসুরে কথা বলা শুরু করেন রাজ ও উদ্ধব। সরকারের ওই নীতির প্রতিবাদ এক মঞ্চে এসে লড়াই করার ঘোষণা করে দিন শিব সেনা উদ্ধব এবং মহারাষ্ট্র নব নির্মাণ সেনার প্রধান। ইতিমধ্যেই চাপে পড়ে হিন্দি বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছে রাজ্য সরকার। কিন্তু তা সত্ত্বেও শনিবার একমঞ্চে এলেন দুই ভাই। সমস্বরে বলে গেলেন, মহারাষ্ট্রের এবং মারাঠিদের স্বার্থে নিজেদের বিবাদ মিটিয়ে নিয়েছেন তারা। উদ্ধব দাবি করলেন, তারা একমঞ্চে এসেছেন এটাই সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ। আগামী দিনে তারা একসঙ্গে থাকবেন, সেটা আরও তাৎপর্যপূর্ণ।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে দুই ভাই একসঙ্গে নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী ফড়ণবিসকে। রাজ বললেন, "যে কাজটা বাল ঠাকরে করতে পারেননি, অন্য অনেকে করতে পারেননি। সেটাই করে দেখিয়েছেন ফড়ণবিস। আমাদের এক করে দিয়েছে।" উদ্ধব বললেন,"বিজেপি গোটা দেশে সবকিছুকে এক করে দিতে চাইছে। হিন্দু বা হিন্দুস্তানে আপত্তি নেই। কিন্তু হিন্দি আমরা মানব না। বিজেপির কাছে আমরা হিন্দুত্বও শিখব না।"
মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে বেশ কিছুদিন ধরেই কানাঘুষো নিজেদের অস্তিত্ব বাঁচাতে বৃহন্মুম্বই পুরনিগমের নির্বাচনে একসঙ্গে লড়তে চলেছে শিব সেনার উদ্ধব গোষ্ঠী এবং রাজ ঠাকরের মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা। আসলে সদ্যই মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে দু’দলের। উদ্ধব কোনওরকমে মুম্বই এলাকায় নিজের অস্তিত্ব বাঁচিয়ে রেখেছেন। আর রাজ ঠাকরে নিজের ছেলেকেও জেতাতে পারেননি। দুই দলই অস্তিত্বের সংকটে। তাই অস্তিত্ব বাঁচাতে পুরনো পারিবারিক বিবাদে ঠাকরে পরিবার এক ছাতার তলায় চলে এলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
