কূটনৈতিক ক্ষেত্রে বিরাট সাফল্য পেল ভারত। গত তিনদিনে হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে ভারতের বন্দরে পৌঁছল তৃতীয় জাহাজ। সোমবার এবং মঙ্গলবার এলপিজি বোঝাই জাহাজ এসে পৌঁছেছিল ভারত। জানা গিয়েছে, বুধবার আশি হাজার মেট্রিক টনেরও বেশি অশোধিত তেল নিয়ে গুজরাটে পৌঁছে গিয়েছে ভারতের জাহাজ জগ লড়কি। সংযুক্ত আরব আমিরশাহী থেকে বিপুল পরিমাণ তেল নিয়ে এসেছে জাহাজটি।
গত শনিবার আমিরশাহীর ফুজাইরা বন্দর থেকে তেল বোঝাই করা হচ্ছিল ভারতীয় জাহাজটিতে। সেসময়েই বন্দরটিতে ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ে। হামলা সামলে তেল বোঝাই জাহাজ আমিরশাহীর বন্দর ছাড়ে রবিবার। কিন্তু হরমুজ প্রণালী পেরনোর সময়ে সাময়িক ভাবে আটকে পড়ে জাহাজটি। অবশেষে হরমুজ পেরিয়ে ভারতের মুন্দ্রা বন্দরে এসেছে জগ লড়কি। অন্তত ৮০ হাজার ৮৮৬ মেট্রিক টন অশোধিত তেল রয়েছে এই জাহাজে। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ জাহাজটি নিরাপদে মুন্দ্রায় এসে পৌঁছেছে।
যুদ্ধ পরিস্থিতিতে একাধিকবার ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে কথা বলেছেন জয়শংকর। জানিয়েছেন, প্রত্যেকটি জাহাজ আলাদা আলাদা ধরে আলোচনা চলছে ইরানের সঙ্গে। আপাতত ভারত-ইরানের আলোচনা সফল হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে চলছে ইরানের সঙ্গে আমেরিকা এবং ইজরায়েলের যুদ্ধ। ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করে গোটা বিশ্বের উপর আরও চাপ বাড়িয়ে যাবে তেহরান। তার জেরে গোটা বিশ্বে তেল এবং গ্যাস সরবরাহ একেবারে বন্ধ হয়ে যাবে। তবে এমন হুঙ্কার দেওয়া সত্ত্বেও ভারতকে আলাদা ছাড়পত্র দিয়েছে ইরান। সোমবার এবং মঙ্গলবার হরমুজ পেরিয়ে ভারতে এসে পৌঁছেছে দুই গ্যাসবাহী জাহাজ শিবালিক এবং নন্দা দেবী। এবার ভারতে ভিড়ল তেলবাহী জাহাজ।
গোটা বিষয়টিকে ভারতের বিরাট কূটনৈতিক সাফল্য বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর বলছেন, ভারতের কূটনীতির জোরেই হরমুজে চলাচলের অনুমতি পেয়েছে তিন জাহাজ। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে একাধিকবার ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে কথা বলেছেন জয়শংকর। জানিয়েছেন, প্রত্যেকটি জাহাজ আলাদা আলাদা ধরে আলোচনা চলছে ইরানের সঙ্গে। আপাতত ভারত-ইরানের আলোচনা সফল হয়েছে। আগামী দিনে হরমুজে আটকে থাকা ভারতীয় জাহাজ চলাচলের জন্যও আলোচনা চলবে বলে জানিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী।
