কেন্দ্রীয় বাজেটকে ঘিরে সংসদে তীব্র আক্রমণের কেন্দ্রে উঠে এল বাংলা। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সুস্মিতা দেব স্পষ্ট ভাষায় অভিযোগ করলেন, মোদি সরকারের অর্থনৈতিক নীতির মূল লক্ষ্য উন্নয়ন নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলিকে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গকে বঞ্চিত করা। তাঁর কথায়, “এই বাজেট কী বলছে তার থেকেও ভয়ংকর হলো, বাংলার মতো রাজ্যগুলির সংকট নিয়ে কেন্দ্র সম্পূর্ণ নীরব।”
সোমবার রাজ্যসভায় বাজেটের উপর আলোচনায় অংশ গ্রহণ করে সুস্মিতা বলেন, টানা ছ’টি বাজেট পেশ হলেও দেশে এখনও জনগণনা হয়নি, অথচ সেই তথ্য ছাড়াই রাজ্যগুলিকে অর্থ বণ্টন করা হচ্ছে। এর সবচেয়ে বড় শিকার বাংলা। সংবিধানকে উপেক্ষা করেই কেন্দ্র রাজ্যের প্রাপ্য আটকে রেখেছে বলে তাঁর অভিযোগ। বাংলার বকেয়া প্রসঙ্গে বিস্ফোরক তথ্য তুলে ধরেন তৃণমূল সাংসদ। সুস্মিতা বলেন, রাজ্যের মোট বকেয়া দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা। শুধু মনরেগাতেই ৫২ হাজার কোটি টাকা আটকে রাখা হয়েছে। তাঁর কটাক্ষ, “এটা আর প্রশাসনিক ভুল নয়, এটা রাজনৈতিক প্রতিশোধ।” প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা ও জল জীবন মিশনে কেন্দ্র টাকা না দিলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার বাংলার বাড়ি ও জলস্বপ্ন প্রকল্পে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বলেও তিনি জানান।
রাজ্যের মোট বকেয়া দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা। শুধু মনরেগাতেই ৫২ হাজার কোটি টাকা আটকে রাখা হয়েছে। সুস্মিতার কটাক্ষ, “এটা আর প্রশাসনিক ভুল নয়, এটা রাজনৈতিক প্রতিশোধ।”
বেকারত্ব প্রসঙ্গে বাংলাকে উদাহরণ করে সুস্মিতা দেব বলেন, রাজ্য সরকারের রিপোর্ট কার্ড ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে এবং মমতার আমলে বাংলায় বেকারত্ব ৪০ শতাংশ কমেছে। অথচ জাতীয় স্তরে কর্মসংস্থানের কোনও দিশা বাজেটে নেই শুধু পরিসংখ্যানের ফুলঝুরি। কেন্দ্রের দারিদ্র্য বিমোচনের দাবিকেও ভুয়ো বলে আক্রমণ করে তিনি বলেন, জনধন অ্যাকাউন্ট থাকলেই কেউ দারিদ্র্যসীমার বাইরে চলে যায় না। বাস্তবে সাধারণ মানুষের জীবনযন্ত্রণার সঙ্গে সরকারের সংখ্যার কোনও মিল নেই।
সবশেষে এনপিআর, এসআইআর ও এনআরসি প্রসঙ্গ তুলে তিনি সতর্ক করেন সুস্মিতা। বলেন, বাংলা ও অসমকে টার্গেট করে পিছনের দরজা দিয়ে এনআরসি চালুর চেষ্টা হলে তার জবাব রাজপথে দেবে মানুষ। সুস্মিতা দেবের কণ্ঠে স্পষ্ট বার্তা, ''এই বাজেট বাংলার বিরুদ্ধে, এবং এই বঞ্চনার রাজনীতির বিরুদ্ধে লড়াই আরও তীব্র হবে।"
