নির্বাচনে ক্ষমতাচ্যুত হতেই তাসের ঘরের মতো ভাঙতে শুরু করেছে তৃণমূল। জনতার ছোড়া পচা ডিমে কার্যত স্নান করতে হচ্ছে এককালের নেতা-মন্ত্রীদের। কয়েকদিন আগেও যারা কার্যত বাঘে-গরুকে একঘাটে জল খাওয়াত, তাঁদের এখন 'ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি' অবস্থা। বিধানসভার তো বটেই, সংসদেও ঘাসফুল শিবিরে লেগেছে মুষলপর্ব। সোমবার দুপুরে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বাংলায় বিজেপির পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে বৈঠকে বসেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সেখানে উপস্থিত রয়েছেন লোকসভার ১১ জন তৃণমূল সাংসদ (TMC MPs)। শুধু এই ১১ জন নয়, পদ্মবনে ঝাঁপ দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছেন আরও বহু তৃণমূল সাংসদ। তবে তার আগে নিজেদের রাজনৈতিক আখের গুছিয়ে নিতে বিজেপির থেকে বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি আদায় করে নিচ্ছেন সাংসদরা।
জানা যাচ্ছে, মূলত তিনটি শর্ত বা প্রতিশ্রুতি আদায়ের ভিত্তিতে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপির দুয়ারে পা রাখতে চলেছেন মমতার এককালের আস্থাভাজন সাংসদরা। যার প্রথমটি হল, আসন্ন ২০২৯ লোকসভা নির্বাচনে ভোটের টিকিট নিশ্চিত করা। জানা যাচ্ছে, বিদ্রোহী সাংসদদের এটাই প্রধান দাবি বিজেপির কাছে। নির্বাচনে নির্দিষ্ট কেন্দ্র থেকে যাতে তাঁদের টিকিট দেওয়া হয় তার গ্যারান্টি চাইছেন প্রত্যেকে।
সোমবার দুপুরে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বাংলায় বিজেপির পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে বৈঠকে বসেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে উপস্থিত রয়েছেন লোকসভার ১১ জন তৃণমূল সাংসদ।
দ্বিতীয়ত, ভোটের পর গোটা রাজ্যে শুরু হয়েছে ডিম থেরাপি। বেশিরভাগ তৃণমূল সাংসদরা বর্তমানে দিল্লিতে থাকলেও বাংলায় তাঁদের পা পড়লে পচা ডিমে অভ্যর্থনা হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। এই অবস্থায় দিল্লির হাইভোল্টেজ বৈঠকে বিজেপির কাছে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা প্রার্থনা করছেন সাংসদরা। কারণ তাঁরা তৃণমূল ছাড়লে রাজ্য সরকারের সমস্ত নিরাপত্তা চলে যাবে। উচ্চপর্যায়ের নিরপত্তার দাবি জানানো হয়েছে।
তৃতীয়ত, তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের মধ্যে অনেকেই রীতিমতো প্রভাবশালী। তাঁরা শুধুমাত্র টিকিট ও নিরাপত্তায় সন্তুষ্ট নন। সূত্রের খবর, বিজেপি যোগে আরও কিছু বাড়তি পুরস্কারের দাবি জানানো হয়েছে। যেমন কেন্দ্রের বড় কোনও কমিশনের চেয়ারম্যানের মতো পদ দাবি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সোমবার দিল্লিতে গোপন বৈঠক সেরেছেন তৃণমূলের অন্তত ২১ বিদ্রোহী সাংসদ। সেখানে উপস্থিত ছিলেন, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, অসীত মাল, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ চক্রবর্তী, আবু তাহের, সুখেন্দু শেখর, শর্মীলা সরকার, খলিলুর রহমান, জগদীশ বর্মা বসুনিয়া-সহ আরও বেশ কয়েকজন। আর এই বৈঠকের পরেই বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে পৌঁছেছেন তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ বিধায়করা। যেখানে উপস্থিত রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বিপ্লব দেব-সহ একাধিক নেতা। পরিষদীয় দলের পর এবার সংসদীয় দলও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতছাড়া সময়ের অপেক্ষা বলেই মত রাজনৈতিকমহলের।
