পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় ‘নতুন তৃণমূল’ তৈরি হতেই দিল্লি দরবারে শুরু হয়েছে উত্তেজনার পারদ। তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) বিক্ষুব্ধ সাংসদদের তৎপরতা ঘিরে জোরদার হয়েছে জল্পনা। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের প্রশ্ন, সংসদে কি আজ থেকেই কার্যত দেখা যেতে পারে ‘নতুন তৃণমূল’কে! ঘনিষ্ঠ মহলের খবর, তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ শিবিরের অধিকাংশ সাংসদ ইতিমধ্যেই দিল্লিতে পৌঁছে গিয়েছেন।
কেউ কেউ রাজধানীর অভিজাত পাঁচতারা হোটেলে ছোট ছোট দলে অবস্থান করছেন, আবার কেউ রয়েছেন নিজেদের সরকারি বাসভবনে। রবিবার দিনভর একাধিক দফায় গ্রুপ কল এবং বৈঠকের মাধ্যমে পরবর্তী কৌশল নিয়ে আলোচনা চলছে বলে সূত্রের খবর। সোমবার সকালেও আরও কয়েক জন সাংসদ দিল্লিতে এসে এই শিবিরে যোগ দেবেন। বিক্ষুব্ধদের দাবি, ইতিমধ্যেই তাঁদের সঙ্গে প্রায় ২০ জন সাংসদ রয়েছেন। যদিও সেই দাবি মানতে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ঘনিষ্ঠ শিবির। তাঁদের পালটা দাবি, এক ডজনেরও বেশি সাংসদ এখনও দলনেত্রীর পাশেই রয়েছেন।
এরই মধ্যে নতুন করে জল্পনা উসকে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ সাংসদদের সম্ভাব্য কর্মসূচি। সূত্রের দাবি, সোমবার তাঁরা বিজেপির এক শীর্ষ কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেন। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ মুখ খোলেননি। একই দিনে দিল্লিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও (Suvendu Adhikari)। ফলে বিক্ষুব্ধ সাংসদদের সঙ্গে তাঁর সম্ভাব্য বৈঠক নিয়েও জোর চর্চা শুরু হয়েছে। রবিবার রাতেই এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বাসভবনে বৈঠক করেছেন তৃণমূলের তিনবারের এক প্রবীণ সাংসদ। সপ্তাহের শুরুতে রাজধানীর নজর এখন তৃণমূলের অন্দরের এই দ্রুত বদলে যাওয়া সমীকরণের দিকেই।
সূত্রের খবর, গত ২৪ ঘণ্টায় একাধিক সাংসদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন মমতা। কয়েকজনকে তিনি নিজে ফোন করেছেন, আবার কয়েকজন সাংসদও তাঁকে ফোন করে সমর্থনের বার্তা দিয়েছেন বলে দাবি তৃণমূল সূত্রের। দলীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, দিল্লিতে থাকা বিক্ষুব্ধ সাংসদদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী। সেই অনুযায়ী রবিবার সন্ধ্যা থেকেই সক্রিয় হয়েছে দলের একাংশ। শেষ মুহূর্তে সমীকরণ বদলানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু লাভের লাভ কতটা হবে, উঠছে প্রশ্ন। আপাতত সব মত, রাজধানীতেই। সেখানেই রাজনীতির ভবিষ্যৎ স্থির হবে। কিছু সময়ের অপেক্ষা মাত্র। তৃণমূলের এই ভাঙন নিয়ে দিল্লির রাজনৈতিক মহলেও জল্পনা তুঙ্গে। শেষ অবধি জল কতদূর গড়ায়, সেদিকেই সবার নজর।
