দিল্লির চাণক্যপুরীতে ভেঙে পড়েছে ছ'তলা বাড়ি। ধ্বংসস্তূপে নিচে আটকে পড়েছেন আবাসিক পড়ুয়ারা। ওই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ২ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে পুলিশ ও দমকল। আরও দু'জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মৃতের সংখ্যা বাড়বে বলেই মনে করছে প্রশাসন। এর মধ্যেই দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির বিধায়ক অনিল শর্মা জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া একাধিক পড়ুয়া বাঁচার জন্য মরিয়া লড়াই চালাচ্ছেন। অনেকেই সাহায্যের জন্য কংক্রিটের নিচে চাপা পড়া অবস্থায় ফোন করেছেন। তিনি নিশ্চিত করেন, ভেঙে পড়া বাড়িটিতে পড়ুয়াদের পিজি ছিল। ফলে ধ্বংস্তূপের নিচে যাঁরা আটকে পড়েছেন, তাঁদের অধিকাংশই কলেজ পড়ুয়া। প্রশ্ন হল, ঠিক কতজন কংক্রিটের নিচে চাপা পড়েছেন?
উত্তর দিতে পারেননি বিধায়ক। অনিল শর্মা বলেন, "এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক একটি ঘটনা। এর চেয়ে হৃদয়বিদারক আর কিছু হতেই পারে না। পড়াশোনার জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে শিক্ষার্থীরা এখানে আসে। অনেকেই এখানকার পিজিতে থাকত। ধসে পড়া ভবনটির নিচে ঠিক কতজন শিক্ষার্থী রয়েছে, তা বলা কঠিন হলেও আমরা নিশ্চিতভাবে জানি যে শিক্ষার্থীরা ভিতরে আটকা পড়েছে।" আরও বলেন, "কিছু শিক্ষার্থী ভেতর থেকেই (চাপা পড়া অবস্থায়) ফোন করছে। মনে হচ্ছে আরও অনেকে ভেতরে আটকে রয়েছে। উদ্ধারকাজ চলছে। আমরা ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করছি। মুখ্যমন্ত্রী এখানে একটি পূর্ণাঙ্গ দল পাঠিয়েছেন। সরকার এই বিষয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করাই আমার প্রধান লক্ষ্য।"
রবিবার দুপুর দেড়টা নাগাদ দিল্লির চাণক্যপুরীর কাছে মোতিবাগ এলাকায় ভারী বৃষ্টির জেরে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে বাড়িটি। খবর পেতেই তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের আটটি ইঞ্জিন। পরে আরও বেশ কয়েকটি ইঞ্জিন পাঠানো হয়। সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে দমকল ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। বহু স্থানীয় বাসিন্দাও সেই কাজে হাত লাগিয়েছেন বলে দেখা গিয়েছে। গোটা পরিস্থিতি ঘিরে শোরগোল পড়ে যায় এলাকায়।
দমকল আধিকারিকরা জানান, ওই ভবনটিতে বহু পড়ুয়া পেইং গেস্ট হিসেবে থাকতেন। রবিবার ছুটির দিন হওয়ায় বহু পড়ুয়াই বাড়িতে ছিলেন। এক প্রত্যক্ষদর্শীর কথায়, ওই বাড়িতে অন্তত ৫০ জন পড়ুয়া ছিলেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাশের একটি বাড়ির পেইং গেস্ট পড়ুয়া জানান, দুর্ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে দৌড়ে এসে তিনি বেশ কয়েকজনের আর্তনাদের আওয়াজ শুনতে পেয়েছিলেন।
