সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: অপহরণের অভিযোগে এনকাউন্টারে খতম করা হয়েছে উত্তরপ্রদেশের ফারুকাবাদের সুভাষ বাথমকে। গণপিটুনিতে মৃত্যু হয়েছে সুভাষের স্ত্রীর। শিশুরা অক্ষত অবস্থায় বাড়ি ফিরেছে ঠিকই। তবে এখনও আতঙ্ক পিছু ছাড়ছে না তাদের। কেউ ঘুমের ঘোরে ডুকরে কেঁদে উঠছে। আবার কেউ খাওয়াদাওয়া, খেলাধুলো ভুলে শুধুই বিড়বিড় করে বলে চলেছে, ‘কাকু আমাদের গুলি করে মেরে ফেলবে।’ ছেলেমেয়েদের অবস্থা দেখে চিন্তিত তাঁরা। এই পরিস্থিতিতে কী করবেন তা বুঝতেই পারছেন না শিশুদের বাবা-মায়েরা।
খুনের মামলায় জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই সুভাষ বাথম তার বাড়িতে থাকতে শুরু করে। কাকু বলেই সুভাষকে ডাকত তারা। কাকুই বলেছিল, তার বাড়িতে জন্মদিনের পার্টিতে আসতে।
প্রতিবেশীর বাড়িতে নিমন্ত্রণ হওয়ায় ছেলেমেয়েদের যেতে দেওয়ার আগে দু’বার ভাবেননি অভিভাবকরা। ছেড়ে দিয়েছিলেন সন্তানদের। নির্দিষ্ট সময়ে সেজেগুজে সুভাষের বাড়িতে গিয়েছিল পনেরোটিরও বেশি শিশু এবং কয়েকজন মহিলা। বিকেল পাঁচটা বেজে গেলেও সন্তানরা বাড়ি ফিরছে না দেখে দুশ্চিন্তায় পড়ে যান অভিভাবকরা। সুভাষের বাড়ির সামনে যান তাঁরা। তবে ওই ব্যক্তি পরিষ্কার জানিয়ে দেয়, শিশুরা বাড়ি ফিরবে না। কিন্তু কেন? যদিও উত্তর মেলেনি। পরিবর্তে কিছু বুঝে ওঠার আগেই গুলি চালাতে থাকে সুভাষ। গুরুতর জখম হন এক গ্রামবাসী। ততক্ষণে অবশ্য ঘরের ভিতর বন্দি অবস্থায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কাটিয়ে ফেলেছে পনেরোরও বেশি শিশু এবং মহিলারা। আতঙ্কে সুভাষের দেওয়া বিস্কুট, লজেন্স খাওয়ার কথাও ভুলে গিয়েছিল খুদেরা।
[আরও পড়ুন: করোনা আতঙ্ক: দেশে ফিরলেন চিনে আটকে থাকা ৩২৪ জন ভারতীয়]
গুলির শব্দ পেয়ে আতঙ্কে কাঁটা হয়ে গিয়েছিল প্রায় প্রত্যেকেই। একে অপরকে জড়িয়ে ধরে বসেছিল। বাইরে গুলি চালানোর ফাঁকে ফাঁকে শিশুদের ঘরে আসে সুভাষ। ভয় দেখিয়ে চিৎকার করতে বারণ করে যায় শিশুদের। তাই চিৎকার করারও সাহস পায়নি খুদেরা। ইতিমধ্যেই খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। রাত দেড়টা পর্যন্ত চলতে থাকে পুলিশ-আততায়ী গুলির লড়াই। গভীর রাতে দরজা ভেঙে সুভাষের বাড়িতে ঢুকে পড়েন গ্রামবাসীরা। এনকাউন্টারে খতম করা হয় সুভাষকে। গণপিটুনিতে গুরুতর জখম হয় সুভাষের স্ত্রী। হাসপাতালে ভরতিও করা হয় তাকে। এরপরই অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার হয় খুদেরা।
বাকি সকলের মতোই বাড়ি ফিরে এসেছে গঙ্গা এবং যমুনা নামে বছর দশেকের যমজ দুই বোন। তবে তাতেও তাদের চোখে মুখে এখনও আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট। খাওয়াদাওয়া প্রায় ছেড়ে দিয়েছে সকলেই। শুধুই বলে চলেছে, “কাকু আমাদের গুলি করে মেরে ফেলবে।” আকাশ কাঠেরিয়া নামে বছর বারোর এক নাবালক ওইদিনের পর থেকে শুধু কেঁদেই চলেছে। কোনও কথারই উত্তর দিচ্ছে না সে। চোখের সামনে সন্তানদের এমন অবস্থা দেখতে পারছেন না তাদের বাবা-মায়েরা।
[আরও পড়ুন: সাধারণ বাজেট ২০২০ LIVE: সংসদে প্রস্তুতি তুঙ্গে, বৈঠকে বসল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা]
The post ‘কাকু গুলি করে মেরে ফেলবে’, উদ্ধারের পরেও আতঙ্কে ফারুকাবাদের পণবন্দি শিশু appeared first on Sangbad Pratidin.
