দিনকাল বদলেছে। এক সময় কাজের খোঁজে উত্তরপ্রদেশ ছেড়ে ভিনরাজ্যে পাড়ি দেওয়াই ছিল দস্তুর। আজ ছবিটা ঠিক উলটো। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের হাত ধরে উত্তরপ্রদেশ এখন কর্মসংস্থান ও শিল্পোন্নয়নের নতুন দিশারি। গত ন’বছরে সরকারি নীতি আমূল বদলে দিয়েছে রাজ্যের মানচিত্র। শুরু হয়েছে ‘রিভার্স মাইগ্রেশন’ বা ঘরে ফেরার পালা।
২০১৭ সালের আগে রাজ্যে কারখানার সংখ্যা ছিল নগণ্য। আজ সেই সংখ্যা ৩০ হাজার ছাড়িয়েছে। ‘ইনভেস্ট ইউপি’ এবং ‘সিঙ্গল উইন্ডো’ সিস্টেমের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরেছে। এক্সপ্রেসওয়ে, ডিফেন্স করিডোর এবং লজিস্টিক হাব তৈরির ফলে স্থানীয় স্তরে তৈরি হয়েছে স্থায়ী কাজ। সরকারি তথ্য বলছে, বেকারত্বের হার এখন তলানিতে।
পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য সুরক্ষা কবচ তৈরি করেছে লখনউ। কর্মস্থলে মৃত্যু হলে পরিবার পায় ৫ লক্ষ টাকা। দুর্ঘটনার ক্ষেত্রেও মোটা অঙ্কের আর্থিক সহায়তার সংস্থান রয়েছে। 'সেবা মিত্র' পোর্টালে ইতিমধ্যে ৫৩ হাজার দক্ষ শ্রমিক নথিভুক্ত হয়েছেন। ঘরের কাছেই মিলছে কাজ, তাই অনিশ্চিত যাত্রা এখন অতীত।
শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য প্রতিটি বিভাগে তৈরি হয়েছে ‘অটল আবাসিক বিদ্যালয়’। করোনা আবহে অনাথ হওয়া শিশুদের শিক্ষার দায়িত্ব নিয়েছে রাজ্য। রয়েছে কন্যা বিবাহ সহায়তা যোজনা। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার খরচে মিলছে ১০০ শতাংশ ছাড়। ৯.৫২ কোটির বেশি জন ধন অ্যাকাউন্ট প্রান্তিক মানুষের আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা— এই তিন স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে উত্তরপ্রদেশ আজ আত্মনির্ভর। ভিন রাজ্য থেকে শ্রমিকরা ফিরছেন নিজের গ্রামে। যোগী আদিত্যনাথের এই ‘ইউপি মডেল’ এখন উন্নয়নের নয়া কাহিনি লিখছে। কর্মসংস্থানের খোঁজে আর ঘর ছাড়ার বাধ্যবাধকতা নেই। বরং নিজের মাটিতেই স্বপ্ন দেখছে উত্তরপ্রদেশের নতুন প্রজন্ম।
