shono
Advertisement
Vijay

তামিলভূমে ইতিহাস! মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ থলপতি বিজয়ের, উপস্থিত ‘প্রেমিকা’ তৃষা

রবিবার সকালে শপথ নিতে বিজয় পৌঁছে যান চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু ইনডোর স্টেডিয়ামে। তাঁর পরনে ছিল সাদা শার্ট, কালো ব্লেজার এবং কালো ট্রাউজার। বিজয় পৌঁছতেই উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েন তাঁর দল টিভিকে-র কর্মী সমর্থকরা। হাততালি দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান। এরপর মঞ্চে উঠে তামিলভাষায় শপথবাক্য পাঠ করতে শুরু করেন দক্ষিণী সুপারস্টার। ‘‘আমি শ্রী জোসেফ বিজয়...’’ - বলতেই যেন গোটা স্টেডিয়ামে ছড়িয়ে পড়ে বিজয়-ম্যাজিক।
Published By: Subhodeep MullickPosted: 10:51 AM May 10, 2026Updated: 11:46 AM May 10, 2026

তামিলনাড়ুতে ইতিহাস! দীর্ঘ জট কাটিয়ে রবিবার মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিলেন দক্ষিণী সুপারস্টার থলপতি বিজয়। তাঁকে শপথ বাক্য পাঠ করালেন রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার। শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজয়ের 'প্রেমিকা' তৃষা কৃষ্ণণ। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও।

Advertisement

এদিন সকালে শপথ নিতে বিজয় পৌঁছে যান চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু ইনডোর স্টেডিয়ামে। তাঁর পরনে ছিল সাদা শার্ট, কালো ব্লেজার এবং কালো ট্রাউজার। বিজয় পৌঁছতেই উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েন তাঁর দল টিভিকে-র কর্মী সমর্থকরা। হাততালি দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান। এরপর মঞ্চে উঠে তামিলভাষায় শপথবাক্য পাঠ করতে শুরু করেন দক্ষিণী সুপারস্টার। ‘‘আমি শ্রী জোসেফ বিজয়...’’ - বলতেই যেন গোটা স্টেডিয়ামে ছড়িয়ে পড়ে বিজয়-ম্যাজিক। হাততালিতে ফেটে পড়েন হাজার হাজার সমর্থকরা। তাঁর ছবির বিখ্যাত সব ডায়লগগুলিকেও যেন এটি হার মানিয়ে দেয়। মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পরই বিজয়কে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গত ছ'দশকে তিনিই তামিলনাড়ুর এমন মুখ্যমন্ত্রী হলেন, যিনি দ্রাবিড় জাতিগোষ্ঠীভুক্ত নন। 

এদিন বিজয়ের সঙ্গেই শপথ নেন আরও আরও ন’জন। সূত্রের খবর, তাঁরা মন্ত্রিত্ব পাচ্ছেন। সেই তালিকায় রয়েছেন কেএ সেনগোত্তাইয়ান - নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলায় গত বছর তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করেন এডিএমকে। এছড়াও শপথ নিলেন বিজয়ের ভোটককুশলী আধব অর্জুন, প্রাক্তন বিজেপি নেতা নির্মল কুমার, টিভিকে-র সাধারণ সম্পাদক এন আনন্দ, অভিনেতা রাজ মোহন, চিকিৎসক টিকে প্রভু, প্রাক্তন আইআরএস আধিকারিক অরুণ রাজ, চেন্নাইয়ের মায়লাপুরের নতুন বিধায়ক পি ভেঙ্কটারামনন এবং সর্বকনিষ্ঠ কীর্তনা। তিনি বিরুধুনগর আসন থেকে জয়ী হয়েছেন।

বিজয়েয় শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত রাহুল। ছবি: সমাজমাধ্যম।

বিগত চার দিন ধরে তামিলনাড়ুতে অব্যাহত ছিল জট। ২৩৪ আসন বিশিষ্ট তামিলনাড়ু বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন। কিন্তু কোনও দল বা জোটই তা ছুঁতে পারেনি। বিধানসভা ভোটে একক বৃহত্তম দল হিসাবে আত্মপ্রকাশ করলেও জাদু সংখ্যা থেকে বেশ কিছুটা দূরেই ছিল বিজয়ের দল টিভিকে। এই পরিস্থিতিতে টিভিকে প্রধান অন্তত তিন বার রাজ্যপালের সঙ্গেও দেখাও করেন। কিন্তু রাজ্যপাল সাফ জানিয়ে দেন, ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থন না পেলে তিনি সরকার গঠন করতে টিভিকে-কে আমন্ত্রণ জানাবেন না। ফলে চাপ বাড়ছিল বিজয়ের উপর।

বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ের দলের প্রাপ্ত আসন সংখ্যা ১০৮। বিজয় দু’টি আসনে জয়ী হওয়ায় তাদের বিধায়ক সংখ্যা ১০৭। কয়েকদিন আগেই কংগ্রেসের পাঁচ বিধায়ক সমর্থন করে টিভিকে-কে। শুধু তা-ই নয়, দুই বাম দলের চার বিধায়কও বিজয়ের পাশে দাঁড়ান। কিন্তু তা-ও জাদু সংখ্যায় ছঁতে পারছিল না বিজয়ের দল। এই পরিস্থিতিতে শনিবার বিজয়কে নিঃশর্ত সমর্থন করেন দুই ভিসিকে বিধায়ক এবং দুই আইইউএমএল বিধায়ক। এরপরই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় টিভিকে। রাজ্যপালও জানিয়ে দিয়েছেন, সরকার গঠন করতে আর কোনও বাধা নেই বিজয়ের। তারপরই রবিবার তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়ে স্বপ্নপূরণ করলেন বিজয়।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement