বিএসএফ-কে ফাঁকি দিয়ে ভারতের মাছের রেনু পাচারের চেষ্টা। এই ঘটনায় বিএসএফের গুলিতে মৃত্যু হল ৩ বাংলাদেশি যুবকের। এই ঘটনা ঘটেছে শুক্রবার রাত ১০টা নাগাদ ত্রিপুরার সিপাহীজলা জেলার পাথারিয়াদার সীমান্তের ১০১ নম্বর গেট সংলগ্ন এলাকায়। বিএসএফের গুলিতে ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়, পরে হাসপাতালে আরও দু'জনের মৃত্যু হয়েছে বলে বেসরকারি সূত্রে জানা গেছে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২৩ জন।
সূত্রের খবর, শুক্রবার রাতে পাথারিয়াদার সীমান্তে দিয়ে মাছের রেণু পাচার করা হচ্ছিল। বিএসএফের নজর এড়িয়ে রেণুগুলি পাচার হয়ে গেলেও ওত পেতে ছিল বিএসএফ। অভিযুক্তরা ফেরার সময় তাঁদের আটক করার চেষ্টা চলে। পালটা বিএসএফের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় পাচারকারীরা। এই পরিস্থিতিতে আত্মরক্ষার্থে বিএসএফ জওয়ানরা পাম্প অ্যাকশন গান থেকে গুলি চালায়। গুলিতে মৃত্যু হয় মুছালিম মিয়াঁ (২০) নামে এক যুবকের। অভিযুক্তের বাড়ি বাংলাদেশের ধজনগর বাতানবাড়ী এলাকায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় নবীর হোসেন (৪৫) নামে অপর এক ব্যক্তিকে বিএসএফ অ্যাম্বুলেন্সে করে প্রথমে মধুপুর হাসপাতাল ও পরে আগরতলা জিবিপি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। গভীর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়। নবীরের বাড়ি বাংলাদেশের মধুপুর মাণিক্যমোড়া এলাকায়। এবং সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা হাসপাতালে ইউসুফ আলি নামে আরও এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ৩ জন। অন্যান্য আহতদের কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে এই ঘটনার পর শনিবার ভারত ও বাংলাদেশের শীর্ষ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে একটি ফ্ল্যাগ মিটিং হয়। এখানে উপস্থিত ছিলেন সিপাহীজলা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং মধুপুর থানার ওসিও। তাঁদের উপস্থিতিতে বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে আলোচনার পর আইনি প্রক্রিয়া মেনে মৃতদেহ দুটি বাংলাদেশে হস্তান্তর করা হয়েছে।
