shono
Advertisement
PM Modi 5 Nation Tour

বিনিয়োগ থেকে জ্বালানি, হরমুজ সংকটে মোদির ৫ দেশের সফরে কী প্রাপ্তি ভারতের?

পাঁচ দেশের সফরে মোদি প্রথম পা রাখেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে। জানা গিয়েছে, দেশটির সঙ্গে মোট ৭টি চুক্তি করেছে ভারত। এর মধ্যে অন্যতম হল - কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব, জ্বালানি সহযোগিতা চুক্তি। ছাড়াও গুজরাটের ভাদিনারে একটি সামুদ্রিক পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। 
Published By: Subhodeep MullickPosted: 03:09 PM May 21, 2026Updated: 07:59 PM May 21, 2026

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালীতে সংকটের জেরে গোটা বিশ্ব কার্যত এক অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে পাঁচ দেশের সফরে বেরিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi 5 Nation Tour)। সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, নরওয়ে এবং ইটালি যাত্রা নিছকই বিদেশ সফর নয়। এটি ভারতের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক, কৌশলগত ও প্রযুক্তিগত অবস্থান শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

Advertisement

জানা গিয়েছে, পাঁচ দেশের সফরে মোদি ভারতে প্রায় ৪০ কোটি মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া সেমিকন্ডাক্টর, লজিস্টিকস, পরিকাঠামো, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি এবং প্রযুক্তির মতো বিভিন্ন খাতের ৫০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক সংস্থাদের প্রধান নির্বাহী এবং ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এই সব সমস্থাগুলির সম্মিলিত বাজার আনুমানিক মূল্য ২.৭ থেকে ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের মধ্যে। এই সংস্থাগুলির মধ্যে অনেকেরই ভারতে উপস্থিতি রয়েছে। সূত্রের খবর, ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ চাহিদা থেকে লাভবান হতে বেশ কয়েকটি সংস্থা তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে।

পাঁচ দেশের সফরে মোদি প্রথম পা রাখেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে। জানা গিয়েছে, দেশটির সঙ্গে মোট ৭টি চুক্তি করেছে ভারত। এর মধ্যে অন্যতম হল - কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব, জ্বালানি সহযোগিতা চুক্তি। ছাড়াও গুজরাটের ভাদিনারে একটি সামুদ্রিক পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। জ্বালানি সহযোগিতা চুক্তির আওতায় ভারতে এলপিজি সরবরাহ করবে আমিরশাহী। পাশাপাশি, পেট্রোলিয়াম মজুত নিয়েও মউ স্বাক্ষর করেছে দুই দেশ। আমিরশাহী ভারতের পরিকাঠামো এবং আর্থিক খাতেও ৫০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। 

অন্যদিকে, ভারত-নেদারল্যান্ডস দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত করেছেন দু'দেশের রাষ্ট্রপ্রধান। একইসঙ্গে দুই দেশ একটি বিস্তৃত রোডম্যাপ প্রকাশ করেছে, যেখানে বাণিজ্য, সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, গ্রিন হাইড্রোজেন এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা ক্ষেত্রে যৌথ কাজের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। মোদির এই সফরে মোট ১৭টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই সফরে মোট ১৭টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিরল খনিজ, পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি, প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের উৎপাদন ইত্যাদি। বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপীয় প্রযুক্তি ও ভারতের উৎপাদন ক্ষমতাকে একত্রিত করেই  বিশ্বের 'সাপ্লাই চেনে' নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে চাইছে দুই দেশ। অন্যদিকে, ভারত ও সুইডেনের সম্পর্কও কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত হয়েছে। আগামী পাঁচ বছর যৌথভাবে দুই দেশ কী কী কাজ করবে, তারও একটি রূপরেখা তৈরি হয়েছে।

তবে ভারত সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক সাফল্য পেয়েছে মোদির ইটালি সফরে। তেমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। মোদি এবং ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির 'চকোলেট-কূটনীতি' এখন গোটা বিশ্বে চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিরক্ষা, বিরল খনিজ, উচ্চশিক্ষা, সামুদ্রিক সহযোগিতা, জলবায়ু গবেষণা, স্বাস্থ্য এবং আয়ুর্বেদ-সহ একাধিক ক্ষেত্রে দু'দেশের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ইউরোপ সফরের অংশ হিসাবে প্রধানমন্ত্রী নরওয়েতে অনুষ্ঠিত তৃতীয় ভারত-নর্ডিক সম্মেলনেও অংশ নেন। শুধু তা-ই নয়, নর্ডিক দেশগুলির নেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করেন মোদি। এই বৈঠকগুলিতে সবুজ শক্তি, প্রযুক্তি, আর্কটিক সহযোগিতা, বাণিজ্য এবং জলবায়ু মোকাবিলার মতো বিষয়গুলি উঠে এসেছে বলে খবর।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement