আসল তৃণমূল কারা? রাজ্য রাজনীতিতে লাখ টাকার প্রশ্ন। এবার মুখ খুলল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সাফ জানানো হল, বিষয়টি সাংবিধানিক। দু'পক্ষের কাগজপত্র খতিয়ে দেখার পরই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। শুক্রবার দিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলনে কমিশনের তরফে জানানো হয়, আইনে যা বলা আছে সেভাবেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। শুক্রবার পর্যন্ত কালীঘাট তৃণমূলের তরফে কাগজপত্র জমা পরলেও ঋতব্রত তৃণমূলের তরফে এখনও সম্পূর্ণ কাগজ জমা পড়েনি।
বিধানসভা ভোটে ভরাডুবির পরই প্রতিদিনই একটু একটু করে ভাঙছে তৃণমূল। ইতিমধ্যেই অধিকাংশ বিধায়ক যোগ দিয়েছে ঋতব্রত শিবিরে। ভোটে পরাজিত তৃণমূল প্রার্থীরাও ঝুঁকছে বিদ্রোহী শিবিরে। অন্যদিকে দিল্লিতে রাজ্যসভার চার সাংসদ পদত্যাগ করেছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন ইতিমধ্যেই গেরুয়া শিবিরের সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। লোকসভাতেও সিংহভাগ সাংসদ তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআইতে যোগ দিয়েছেন।
সূত্রের খবর, লোকসভার বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদরা সরাসরি বিজেপিতে যোগ দিতে পারে। এই জটিল পরিস্থিতির মধ্যে তৃণমূলের রাশ কাদের হাতে থাকবে তা নিয়ে শুরু হয়েছে টানাপোড়েন। এই বিষয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তাদের সাফ জবাব, দু'পক্ষের কাগজ দেখার পরেই সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে। আইনে যা বলা হয়েছে তার অন্যথা হবে না।
অন্যদিকে, দেশজুড়ে যে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের কাজ চলছে, তা স্বচ্ছ ভাবেই হচ্ছে প্রমাণে মরিয়া ছিল কমিশন। গোটা প্রক্রিয়া কীভাবে হয়েছে বা এখনও হচ্ছে তার ব্যাখ্যা দেন জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-সহ আধিকারিকরা। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, দেশে বিভিন্ন রাজ্যের হাই কোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে তালিকা সংশোধন নিয়ে মোট ৭৮৬টি মামলা হয়েছিল। তার মধ্যে কমিশন একটি ছাড়া বাকি সব কটিতেই জয়ী হয়েছে। ফলে সংশোধন নিয়ে স্বচ্ছতায় কোন অস্পষ্টতা ছিল না বলে দাবি করা হয়।
পাশাপাশি এবারের বিধানসভা নির্বাচনে শতাংশের হিসাবে বাংলার ভোটাররা সর্বোচ্চ ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে, তা নিয়ে বাংলার প্রশংসাও করা হয় এই সম্মেলনে। বাংলার মানুষের রাজনৈতিক সচেতনতা নিয়ে প্রশংসা করেন কমিশনের আধিকারিকরা। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটে গোটা পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ ভোট দিয়েছেন বলে দাবি করা হয়।
