সরকারি চাকরি-সম্পত্তির লোভে নিজের মা’কেই খুনের অভিযোগ উঠল মেয়ের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, মা’কে প্রাণে মারতে ভাড়াটে খুনি নিয়োগ করেন তরুণী। গোটা ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিল তাঁর কাকা এবং খুড়তুতো ভাইও। সম্প্রতি চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে রাজস্থানের জয়পুরে।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতার নাম নীরজ শর্মা (৪৫)। তিনি জয়পুরের একটি আদালতে লোয়ার ডিভিশন ক্লার্ক (এলডিসি) হিসাবে কর্মরত ছিলেন। গত ৩ জুলাই প্রতাপ নগর এলাকায় তাঁকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় পুলিশ তাঁর মেয়ে আয়ুশি শর্মা-সহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে আরও এক অভিযুক্ত পলাতক। জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন ছেলেকে কোচিং সেন্টারে পৌঁছে দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন যুবতী। সেই সময় প্রায় ১৩০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিতে ছুটে আসা একটি চারচাকা গাড়ি তাঁকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। নীরজকে ‘খুনে’র পরই সেখান গাড়ি নিয়ে সেখান থেকে চম্পট দেন চালক।
ঘটনার তদন্তে নেমে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা। সেখান থেকেই এমন কিছু প্রমাণ তাঁদের হাতে আসে, যা থেকে বোঝা যায় যে, এটি নিছক কোনও দুর্ঘটনা নয়। বরং এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত খুন। পুলিশের দাবি, আয়ুশি তাঁর কাকা এবং খুড়তুতো ভাইয়ের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে ৭ লক্ষ টাকার বিনিময়ে এক ভাড়াটে খুনি নিয়োগ করেছিলেন। এরপরই ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা মাফিক নীরজকে হত্যা করা হয়। গোটা বিষয়টিকে এমনভাবে সাজানো হয়েছিল, যাতে মনে হয় এটি একটি সড়ক দুর্ঘটনা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আয়ুশির বাবার সরকারি চাকরি করতেন। কিন্তু এক বছর আগে তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর সেই চাকরটি আয়ুশি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই চাকরিটি নেন তাঁর মা। তারপরই দু'জনের মধ্যে বিবাদ চরমে ওঠে। শুধু তাই নয়, গত দু-তিন বছর ধরে সম্পত্তি নিয়েও মা-মেয়ের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
