খলিস্তানি জঙ্গি হরদীপ সিং নিজ্জরের খুনে গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই ও গোল্ডি ব্রারকে অভিযুক্ত করেছে মার্কিন গোয়ান্দা সংস্থা এফবিআই। শুধু তাই নয়, আমেরিকা-কানাডা এবং ইউরোপজুড়ে শুরু হয়েছে ধরপাকড়। গ্রেপ্তার করা হয়েছে অন্তত ২৪ জনকে। এই ঘটনায় এবার মুখ খুলল ভারত। আমেরিকা এবং কানাডার পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
কানাডার একটি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অটোয়ায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ কে পট্টনায়ক বলেন, "ভারত দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রগুলির বিরুদ্ধে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছিল। অবশেষে তাদের চোখ খুলেছে। আমেরিকা এবং কানাডার পদক্ষেপকে স্বাগত জানায় নয়াদিল্লি। দীর্ঘদিন ধরে কানাডা এবং আমেরিকার মাটি ব্যবহার করে এই চক্রগুলি হিংসা ছড়িয়ে আসছিল। কিন্তু এতদিন এগুলির বিরুদ্ধে প্রশাসন কিছুটা উদাসীন ছিল। কিন্তু তাদের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলি একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করে। এটি প্রমাণ করে যে পশ্চিমের নিরাপত্তা সংস্থাগুলি এখন আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রগুলির বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে রুখে দাঁড়াচ্ছে।"
২০২৩ সালের ১৮ জুন কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়ার সারের একটি গুরুদ্বারের সামনে খলিস্তানি নেতা নিজ্জরকে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ড ঘিরে ভারত ও কানাডর মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েনেরও সৃষ্টি হয়েছিল। ঘটনার মাসতিনেক পরে কানাডার পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো দাবি করেন, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছে ভারত। এমন বিস্ফোরক মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করে নয়াদিল্লি। এহেন পরিস্থিতিতে ২০২৪ সালের মে মাসে নিজ্জর খুনের অভিযোগে চার জন ভারতীয় এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূতকে গ্রেপ্তারও করে কানাডা পুলিশ। যদি অল্প সময় পরেই জামিন পান নিজ্জর খুনে অভিযুক্ত চার ভারতীয় করণ ব্রার, আমনদীপ সিং, কমলপ্রীত সিং এবং করণপ্রীত সিং। পরে কানাডার কমিশনের রিপোর্টেই পরিষ্কার বলে দেওয়া হয়, এই খুনে ভারতের কোনও ভূমিকা নেই।
প্রসঙ্গত, নিজ্জরের খুনে গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই ও গোল্ডি ব্রারকে অভিযুক্ত করেছে এফবিআই। এফবিআই-এর নেতৃত্বে এক এক আন্তর্জাতিক অভিযানের অংশ হিসাবে তল্লাশি চালিয়ে উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপজুড়ে মোট ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডে সব মিলিয়ে তিনটি অপরাধী গোষ্ঠীর ৩৭ জনের নাম জড়িয়েছে।
