হেমন্ত মৈথিল, লখনউ: গত আট বছরে উত্তরপ্রদেশে নারী সুরক্ষা ও ক্ষমতায়নে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন যোগী আদিত্যনাথ। শুধু নারীর নিরাপত্তা নয়, বরং সমাজের মূল স্রোতে নারীকে ফিরিয়ে আনতে যোগী সরকার চালু করেছেন 'মিশন শক্তি'।
২০১৭ সালের আগে উত্তরপ্রদেশের অবস্থা ছিল অন্যরকম। তখন নারী নির্যাতনের ঘটনা আকছর লেগেই থাকত। গার্হস্থ্য হিংসা, খুন, ধর্ষণের মতো ঘটনা লেগেই থাকত। সেই পরিস্থিতি বদলে দিতে ২০১৭ সালে ক্ষমতায় এসে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ নারী সুরক্ষায় বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
রাজ্যজুড়ে মহিলাদের জন্য বিশেষ 'পিঙ্ক বুথ' স্থাপন করা হয়। মহিলা বিট কনস্টেবলরা সক্রিয় হয়ে ওঠেন জনপদ থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চল সর্বত্রই। মহিলাদের দ্রুত সুরক্ষায় চালু হয় উইমেন হাল্পলাইন ১০৯০ নম্বর। ইভটিজিং রুখতে গঠিত হয় অ্যান্টি-রোমিও স্কোয়াড। এই অভিযানে ৩২২৯১ জনের বিরুদ্ধে সরাসরি আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। রাস্তাঘাটে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয় সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারি। মহিলাদের জন্য ডেডিকেটেড হেল্প ডেস্ক, স্পেশাল পিঙ্ক প্যাট্রল ইউনিট এবং বিভিন্ন পুলিশি অভিযানও চালানো হয় রাজ্যজুড়ে। পুলিশ ২৭৩৬৪৪ জন নির্যাতিতা নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেন। এছাড়াও 'অপারেশন গার্লস'-এর আওতায় ২৫৯৭টি সাইবার অপরাধের অভিযোগের মধ্যে ২৪০৭টির সমাধান করা হয়েছে। উইমেন অ্যান্ড চাইল্ড সেফটি অর্গানাইজেশন (WCSO) একইভাবে ২৬৬১৫৩৭টি অভিযোগের মধ্যে ২৬৪৬১৯১টিরও বেশি অভিযোগের সমাধান করেছেন।
নারী সুরক্ষায় গোটা দেশের মধ্যে উত্তরপ্রদেশ এখন একটি দৃষ্টান্ত। অন্যান্য রাজ্যের কাছে উত্তরপ্রদেশ মডেল রাজ্য হিসেবে উঠে এসেছে। যোগী সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপ নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সমাজে তাদের আত্মবিশ্বাস ও স্বাধীনতার নতুন পথ তৈরি করে দিয়েছে।
